নিজস্ব প্রতিবেদক // জুয়ার আসর থেকে পালানো পুলিশের ওসি এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে স্ব স্ব দপ্তর। মাল্টিমিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু হয়। এরই মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
তাছাড়া জুয়ার আসর থেকে পালানো নলছিটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আবুল খায়েরের বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল রাতে বরিশাল নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরবাড়ি রোডের তৃতীয় তলা ভবনের একটি কক্ষে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় সাংবাদিক দেখে পালিয়ে যান ওসি খায়ের এবং প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিদর্শক মো. হেলাল।
বরিশালে জুয়ার আসর থেকে ওসি ও শিক্ষকের পলায়ন, তদন্ত শুরু
প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে ১৫০ জনের এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত
এ ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক কালবেলা মাল্টিমিডিয়া। এরপর নড়েচড়ে বসে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা।
বরিশালে জুয়ার আসর থেকে ওসি ও শিক্ষকের পলায়ন, তদন্ত শুরু
ডিসির ‘জাল’ স্বাক্ষরে ৪০০ অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া সেই শামসুল স্ত্রীসহ কারাগারে
প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মিজ নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, কালবেলায় প্রচারিত ভিডিও রিপোর্টে শিক্ষক হেলালের উপস্থিতি দেখা গেছে। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ওই শিক্ষকের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। সে নিজেকে নির্দেশ দাবি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষক লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছেন, তিনি তার একজন ঠিকাদার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ওই ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জুয়া খেলার জন্য যাননি। তদন্ত শেষে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে।
এদিকে তদন্ত শুরুর পর পরই কালবেলা প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার মিশনে নামেন শিক্ষক হেলাল। তার পক্ষে তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষী দিতে স্ত্রীকে পাঠিয়ে প্রতিবেদককে ম্যানেজের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রচারিত ভিডিওটি আমি দেখেছি। তবে সেখানে ওসি খন্দকার আবুল খায়েরকে দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) রাতে নগরীর ফকিরবাড়ি রোডের তৃতীয় তলা ভবনের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে ভেতরে জুয়ার আসর বসে। একটি লম্বা টেবিলের চারদিকে চেয়ার সাজিয়ে ৫-৬ জন বসে জুয়া খেলেন ওসি খন্দকার আবুল খায়ের ও প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিদর্শকসহ বেশ কয়েকজন।
খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান টেবিলে মানিব্যাগ, মোবাইল, তাস এবং ১০০, ৫০০-১০০০ টাকাসহ বিভিন্ন মানের নোট রাখা। এসময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে টাকা নিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়েন ওসি খায়ের। পরে সুযোগ বুঝে কেটে পড়েন তিনি। যা ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। তাছাড়া একইভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন শিক্ষক মো. হেলাল।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।