বরিশাল নগরীতে উদিয়মান বিপদজনক একঝাক প্রতারক নারী সদস্যরা নিঃস্ব করছে বিভিন্ন বয়সের যুবকদের। তাদের প্রতারণার ফাঁদ এতটাই তীক্ষণ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সর্বশান্ত হতে হচ্ছে ঐ সকল ফাদে পা দেয়া যুবকদের। এমনকি হামলা, মিথ্যা মামলার শিকার হতে হচ্ছে তাদের। নিজেদেরকে টিকটক সেলিব্রেটি পরিচয় দানকারী ঐ সকল মেয়েদের টার্গেট থাকে সমাজের বিত্তবানদের। কতিপয় অসাধু এই নারী চক্রের হাতে ফাঁদে পড়ে একসময় জিম্মিদশায় পতিত হন তারা । সম্প্রতি এমনি এক নারী চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বশান্ত হয়েছে বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী আকাশ(৩০) নামের এক যুবক।
এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভুগী আকাশের মা। অভিযোগে জানা যায়, গত তিন মাস পুর্বে নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ আলমের দুই মেয়ের মধ্যে ফাতেমা ফিরোজ(১৯) এর সাথে পরিচয় হয় নগরীর ৯ নং ওয়ার্ডস্থ এলাকার বাসিন্দা রবি সাহার ছেলে আকাশের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে পরিচয় থেকে গড়ায় প্রেমের সম্পর্কেও। এ সুবাদে সম্পর্কের গভীরতায়একসময় ভালবাসার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন আকাশ। প্রেমিকার অভিনব কৌশলে ফাঁদে পড়ে যান আকাশ।
বিভিন্ন সময় আকাশকে বিয়ের প্রলোভনে দফায় দফায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আকাশের থেকে গিফট সামগ্রীও নিয়ে থাকেন। এদিকে সম্পর্কের দীর্ঘতায় প্রকাশ্যে আসে প্রতারক ঐ ফাতেমা ফিরোজের বিভিন্ন ছেলের সাথে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি । ঐ তরুনীর সাথে ফেইসবুক সহ নানা মাধ্যমে আপত্তিকর ছবিও ভাইরাল হয়। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই নজরে আসে প্রেমিক আকাশের। ঐ নারীর নানা অবৈধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ তিনি তার প্রেমিকা ফাতেমাকে ডেকে সম্পর্ক বিচ্ছেদের কথা জানিয়ে দেন।
এছাড়া বিভিন্ন সময় ফাতেমাকে দেয়া সেই টাকাও ফেরত চান আকাশ। এতেই ক্ষিপ্ত হন ফাতেমা। এর কিছুদিন পর ফাতেমা শেষ বারের মত তার সাবেক প্রেমিক আকাশকে একনজর দেখতে চাই বলে পোর্ট রোড ৭ম তলা নামক একটি ভবনের সামনে ডেকে নেয় ফাতেমা। এসময় তার সহযোগী হিসেবে ছিল বড় বোন ইরোনা ফিরোজ(২৪) । পুর্বপরিকল্পিত অনুযায়ী আকাশকে ডেকে নিয়ে বেধরক মারপিট ও কুপিয়ে জখম করে ফাতেমা, ইরোনার ২ প্রেমিক মধু ও রেদোয়ান। তাদের সহযোগী হিসেবে ছিল অলী, রেজা ও মামুনসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন কতিপয় সন্ত্রাসী। একপর্যায়ে আকাশের মাথায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে অভিযুক্তরা।এসময় আকাশের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত আকাশকে উদ্বার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর আরাফাত রহমান হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে শীগ্রই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।