নিউজ ডেস্ক : বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আকস্মিক ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যেই প্রকাশ্যে এ কর্মসূচি পালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর বগুরা রোডের বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল ব্যানার নিয়ে জড়ো হয়। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে কয়েক মিনিটের জন্য ঝটিকা মিছিল ও শোডাউন করে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। তারা বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আবদুল্লাহ এবং তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত সিরাজুল ইসলাম রাকিবের ছবি সংবলিত ব্যানার বহন করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলকারীদের মধ্যে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া বা গোপনীয়তার প্রবণতা দেখা যায়নি।
হঠাৎ ব্যস্ত সড়কে এমন কর্মসূচি শুরু হলে পথচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি নগরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই মিছিলকারীরা বিভিন্ন গলি ও বিকল্প পথ ব্যবহার করে এলাকা ত্যাগ করে। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, “জুমার নামাজের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু কর্মী বগুরা রোড এলাকায় ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আমাদের টিম পৌঁছানোর আগেই তারা দ্রুত সরে পড়ে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
ঘটনার পর নগরীর কাকলীর মোড়, সদর রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও, ফেইসবুকে প্রকাশিত ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে নগরীতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।