
আগামী বছর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে সুলিভানের। গ্লেনডেলের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে ৬২ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই কিশোর।
এর মধ্য দিয়ে ম্যাথিস আলবার্টের রেকর্ড ভেঙে দেন সুলিভান। মাত্র পাঁচ দিন আগে ১৭ বছর ৩১ দিন বয়সে চিলির বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-২ গোলের জয়ে গোল করে সবচেয়ে কম বয়সী মার্কিন গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন আলবার্ট।
নিজের ঐতিহাসিক গোলের পর সুলিভান বলেন, 'আপনার বয়স যখন তিন, চার, পাঁচ কিংবা ছয় বছর, তখন এমন মুহূর্তেরই স্বপ্ন দেখেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি এই মুহূর্তটি নিজের জন্য কল্পনা করেছিলাম। শুধু গত কয়েক ঘণ্টা ধরে নয়, যখন জানতে পারলাম আমি একাদশে থাকছি, বরং পুরো জীবন ধরেই।'
সুলিভানের ঐতিহাসিক গোলের আগে আরেক কিশোর, ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হল, ২৮ মিনিটে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দিয়েছিলেন।
মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে গত সপ্তাহে পেরুর বিপক্ষে অভিষেকের পর জাতীয় দলের হয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করলেন হল। চিলির বিপক্ষে জয়ের ম্যাচেও গোল করেছিলেন তিনি।
শুরুর দিকে মেক্সিকো বলের নিয়ন্ত্রণ ও মাঠের দখলে এগিয়ে থাকলেও নিজেদের পাওয়া সুযোগগুলো দারুণভাবে কাজে লাগায় যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ মিনিটে গোলের সূচনা করেন হল। অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের কাছ থেকে বল নিয়ে জিও রেইনা বক্সে ঢুকে মেক্সিকোর মিডফিল্ডার এরিক লিরাকে কাটিয়ে গোললাইন পর্যন্ত চলে যান।
রেইনার নিচু ক্রস মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল ঠেকিয়ে দিলেও বল গিয়ে পড়ে হলের সামনে। ফিরতি বল জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো। বক্সের প্রান্ত থেকে রবার্তো আলভারাদোর জোরালো শট কোনোমতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক দিয়েগো কোচেন।
এরপরই ইতিহাস গড়েন সুলিভান। নিজেদের বক্সের বাইরে থেকে রাঙ্গেল ভুল পাস দেওয়ার পর লম্বা বলের পেছনে ছুটে যান সুলিভান। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূর থেকেই গোলরক্ষককে চমৎকার চিপ শটে পরাস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলটি নিয়ে সুলিভান বলেন, 'আমার শুধু মনে আছে, বলটি চিপ করেছিলাম। আশা করছিলাম সেটি ক্রসবারে আঘাত করবে না কিংবা গোলের ওপর দিয়ে চলে যাবে না। বল যখন বাতাসে ছিল, তখন আমি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। এরপর সবকিছু যেন ঝাপসা হয়ে গেল।'
৬৮ মিনিটে মেক্সিকোর দুর্দশা আরও বাড়ে। সেবাস্তিয়ান বারহাল্টারের মুখে হাত দেওয়ায় বদলি হিসেবে নামা লুইস শাভেজকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি।
এরপর ৮৪ মিনিটে তৃতীয় গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত করেন মালিক টিলম্যান। মেক্সিকোর রক্ষণভাগ থেকে আসা দুর্বল ব্যাকপাসের সুযোগ নিয়ে বল দখলে নেন তিনি। এরপর বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোলের ওপরের কোণে বল পাঠিয়ে দেন।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র। আর মাত্র ১৭ বছর ৫ দিন বয়সে জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন সুলিভান।