
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে মো. রানা (১৭) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকার কালাবদর নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ রানাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় জেলেদের সমন্বয়ে অভিযান চলছে।
নিখোঁজ রানা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে মা-বাবার সঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কামির মোল্লার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসে সে। অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলার ছাড়ার কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত পা পিছলে রানা নদীতে পড়ে যায়। সাঁতার না জানার কারণে মুহূর্তেই কালাবদর নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় সে। ট্রলারে থাকা যাত্রীরা দ্রুত উদ্ধারচেষ্টা চালালেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে নেমে অনুসন্ধান শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, “চোখের সামনে ছেলেটা পানিতে পড়ে গেল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করি, কিন্তু স্রোতের কারণে তাকে আর পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, মেয়ের বাবা কামির মোল্লা ও রানার পরিবার ঢাকায় একসঙ্গে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেই পরিচয়ের সূত্রেই তারা বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “রানা ট্রলারে বসে মোবাইল দেখছিল। কীভাবে পানিতে পড়ে গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বর্তমানে নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ফরাজী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের সহযোগিতা করছি।”
কালীগঞ্জ নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল হোসেন বলেন, “বর্ষার কারণে নদীতে স্রোত অনেক বেশি। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছি। স্থানীয় জেলেরাও আমাদের সহযোগিতা করছেন।”
এদিকে দুর্ঘটনার পর নদীর তীরে ভিড় করছেন নিখোঁজ রানার স্বজন ও স্থানীয়রা। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা-বাবা। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, বর্ষা মৌসুমে কালাবদর, মেঘনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এ সময় নৌযানে চলাচলের ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।