
২০২৩ সালের অক্টোবরে বাঁ হাঁটুর গুরুতর চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছিলেন সান্তোসের এই তারকা ফরোয়ার্ড। এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসনের কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়েও ছিল বড় অনিশ্চয়তা। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে চূড়ান্ত দলে জায়গা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার খবর শুনে নেইমার নিজের শারীরিক পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ রাফায়েল মার্তিনি ও ফিটনেস কোচ রিকার্দো রোসাকে জড়িয়ে ধরছেন। তার সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে এই দুজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সান্তোসের সতীর্থ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের সামনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নেইমার বলেন, ‘আমি যে অনুভূতির মধ্য দিয়ে গেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখানে সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। এই ডাক শুধু আমার জন্য নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সবার জন্য। যারা মাঠে ও মাঠের বাইরে আমার পাশে ছিল, আমার নিরাপত্তা, ফিটনেস ও খাবারের যত্ন নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, আমি কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছি। এই জায়গায় পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না। যারা পুরো সময়টা আমার সঙ্গে ছিল, তারা জানে সময়টা কতটা কঠিন ছিল। কিন্তু দলে নিজের নাম শোনার পর মনে হয়েছে সব ত্যাগ ও পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’
৩৪ বছর বয়সী নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ৭৯। এটি হবে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপ দলে নেইমারের ফেরায় উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি, ‘সবসময় আমাকে বিশ্বাস করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। পুরো ক্যারিয়ারে আপনারা যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’
আগামী ৩১ মে মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ৬ জুন মিশরের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে তারা।
১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।