
বরিশালে উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে বহুল আলোচিত ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’। নগরীর পরেশ সাগর মাঠে আয়োজিত এ মেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা স্টল সাজিয়ে পণ্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেন। নির্মাণ করা হয় সুসজ্জিত মঞ্চ, টানানো হয় অতিথিদের নামসংবলিত ব্যানারও।
জানা গেছে, মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি এবং জেলা প্রশাসককে বিশেষ অতিথি করার পরিকল্পনা ছিল। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে স্টল ও সাজসজ্জার সকল প্রস্তুতিও প্রায় শেষ হয়েছিল। তবে বিকেলের দিকে আদালতের নির্দেশনার খবর পৌঁছালে হঠাৎ করেই থেমে যায় পুরো আয়োজন।
মেলার আয়োজন করেন বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও বিএনপির নেতা এবায়দুল হক চান। তবে আয়োজন শুরুর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। অভিযোগ ওঠে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনেককেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবও জানিয়েছেন, তিনি এ অনুষ্ঠানের কোনো আমন্ত্রণ পাননি।
আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৬২৯১/২০২৬-এর নির্দেশনার আলোকে ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আদালতের নির্দেশ অনুসারে মেলার কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২১ মে ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠির অনুলিপি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালি মডেল থানা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়।
হঠাৎ মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। তাদের অভিযোগ, স্টল ভাড়া, পরিবহন ও পণ্য আনতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন তারা। শেষ মুহূর্তে মেলা স্থগিত হওয়ায় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এদিকে নগরবাসীর একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, বিভাগীয় পর্যায়ের এমন একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের অভাব দেখা দিল। আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ানোর পেছনের কারণ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
এ বিষয়ে আয়োজক পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরিশাল চেম্বার সভাপতি এবায়দুল হক চান এবং জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সচেতন মহলের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা হতে হবে আইনি স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে। অন্যথায় বিতর্কের পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়বেন সাধারণ উদ্যোক্তারাই।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।