নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বর্ষার ভরা মৌসুমে মেঘনা নদীতে সাধারণত ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ে রুপালি ইলিশ। মাছে ভরে ওঠে ঘাট, আর জেলেদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। তবে চলতি মৌসুমে সেই চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত। ভরা মৌসুমেও ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মেঘনা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা। এতে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাজারো জেলে পরিবারের।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার রামনেওয়াজ মাছঘাট, হাজিরহাট মৎস্যঘাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া জনতা বাজার মৎস্যঘাট, মাঝেরঘাট, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খালসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের জেলেপল্লী ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মাছ না পাওয়ার হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে জেলেদের মধ্যে। অনেকেই ধারদেনা করে নদীতে মাছ ধরতে গেলেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।
জেলেরা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলছেন তারা। কেউ অল্প কিছু মাছ নিয়ে ফিরছেন, আবার কেউ ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। মাছ বিক্রির আয় দিয়ে অনেকেরই জ্বালানি তেল, বরফ ও শ্রমিকের খরচও উঠছে না। এতে দিন দিন বাড়ছে আর্থিক সংকট। পাশাপাশি এনজিও ঋণের চাপও বাড়ছে জেলে পরিবারগুলোর ওপর।
মাঝেরঘাট এলাকার জেলে আব্দুল করিম বলেন, প্রতিদিন নদীতে যাই, কিন্তু মাছ খুব কম পাচ্ছি। আগে এক জালে যত ইলিশ উঠত, এখন কয়েকবার জাল ফেলেও তত মাছ পাওয়া যায় না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জনতা বাজার মৎস্যঘাটের জেলে মো. সেলিম বলেন, তেল, বরফ ও খাবারের খরচ অনেক বেড়েছে। নদীতে গিয়ে যদি মাছই না পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব? আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
শুধু জেলেরাই নন, এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছঘাট ও আড়তগুলোতেও। ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন লোকসানের মুখে।
রামনেওয়াজ ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মমিন তালুকদার বলেন, ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাটে ইলিশে ভরে যায়। এবার সেই তুলনায় মাছ অনেক কম আসছে। ফলে ব্যবসায় মন্দা চলছে, লোকসানও গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বণিক বলেন, ইলিশের চলাচল অনেকটাই নদীর পরিবেশ, জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। আগামী দিনগুলোতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আমরা আশাবাদী।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।