মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি ।।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি অসহায় পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে । গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আলীমাবাদ ইউনিয়নের গাগুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন হালিমা বেগম (৪০), শাহনাজ বেগম (৩০) ও হাসান মৃর্ধা (৩০)। তাদের মধ্যে হাসান মৃর্ধার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।এই ঘটনায় হালিমা খাতুন বাদী হয়ে ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বরিশালের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি ডিবি পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।তবে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্ত পক্ষ পাল্টা মামলা দায়ের করেছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হালিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আলমগীর নলীর সাথেে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন আলমগীর নলী, আল আমিন (২২), নারগিস বেগম (৪৫), আসমা বেগম (৪৯)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হালিমা খাতুনের বাড়িত গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং বিরোধপূর্ণ জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কাটতে থাকে।
এ সময় বাধা দিলে হামলাকারীরা হালিমা খাতুনকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
হালিমা খাতুনের চিৎকারে শাহনাজ বেগম ও হাসান মৃর্ধা
এগিয়ে এলে তাদেরকেও হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা হাসান মৃর্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। ভুক্তভোগীরা জানান হামলার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতদের মধ্যে একজনের মাথার হাড় পর্যন্ত কেটে যায়, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর জখম এবং সাধারণত দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারার আওতায় পড়ার মতো অপরাধ। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আহতদের ৩২৩ ধারার (সাধারণ আঘাত) মেডিকেল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।
এতে করে ঘটনার প্রকৃত গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের আশঙ্কা, গুরুতর জখম থাকা সত্ত্বেও যদি সাধারণ আঘাত হিসেবে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়, তাহলে এতে মামলার আইনি প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে। নিজেদের দায় এড়াতে বাদী পক্ষের নিরীহ সদস্যদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য বলেন,
একদিকে আমাদের স্বজন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে, অন্যদিকে মিথ্যা মামলার ভয়ে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।