
জাতীয় সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফয়জুল করীম।
তিনি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই নাগরিকদের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো আইন সরকার করতে পারে না।’
ফয়জুল করীম বলেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ইসলামী শরিয়াহতে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। পবিত্র কুরআনে উত্তরাধিকার আইন অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিবারের বিভিন্ন স্তরের উত্তরাধিকারীদের অধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এর বাইরে নতুন কোনো পদ্ধতি সংযোজনের প্রয়োজন বা সুযোগ নেই।’
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির বলেন, ‘শরিয়াহর উত্তরাধিকার আইনকে পাশ কাটিয়ে সন্তানদের নামে সম্পত্তি “হেবা” করার প্রবণতা সমাজে রয়েছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা জীবদ্দশায়ই নিজেদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত বা উচ্ছেদ হচ্ছেন। বৃদ্ধ বয়সে তাদের গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সমস্যার মূল কারণ শরিয়াহর উত্তরাধিকার বিধান এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা। তাই এর সমাধান করতে গিয়ে আবার শরিয়াহর বিধান পরিবর্তন করা যাবে না। সমস্যা সমাধানের জন্য সামাজিক ও আইনগতভাবে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে হঠাৎ করেই শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করেছে, যা সরাসরি ইসলামের ওপর আঘাত।
বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে ফয়জুল করীম বলেন, বিরোধী দল একদিকে লংমার্চ করছে, আবার সংসদে পক্ষেই কথা বলছে, যা বোধগম্য নয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে হেবা আইন ইস্যুতে আগামীকাল শুক্রবার দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।