
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সরকার তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি দুই বছরের প্রবাসজীবন শেষ করে দেশে ফিরতে প্রস্তুত। দেশে ফিরে হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর বিচার মোকাবিলা করতে চান তিনি। পাশাপাশি দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি। তিনি আশা করছেন, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি নিশ্চিত করে যে দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা থাকবে, তাহলে তিনি দেশে গিয়ে আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’
তিনি জানান, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী এবং মনে করেন তিনি কোনো অপরাধ করেননি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে থাকা শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সাকিব জানান, তিনি দ্রুত দেশে ফিরতে চান; তা সম্ভব না হলে হাসিনার সঙ্গে ফেরার বিষয়টিও বিবেচনা করবেন।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাকিব জানান, সেখানে তিনি শুধু শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা বলেছেন। এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানান তিনি।
সাকিব জানান, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে যোগাযোগ করেছিলেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো ভিত্তিহীন এবং সেগুলো প্রত্যাহারের আবেদন জানালেও কোনো সাড়া পাননি।
তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী তিনি। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে এখনও উপভোগ করছি এবং ভালো খেলছি। তবে বয়স আমার পক্ষে নেই, তাই অবসরের সিদ্ধান্ত খুব বেশি পিছিয়ে দিতে পারব না।’
সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার দেশে ফেরার জন্য বিমানে উঠেছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। তবে যাত্রাপথে তাকে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে দুবাইয়ে নেমে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফিরে যান, যেখানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।