
আজ সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অথচ বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
সোমবার কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে গ্যাস বোঝাই করে আসা ‘ফুওয়ারিত’ নামের একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পাকিস্তানের পথে রওনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার এটি পাকিস্তানে পৌঁছাবে। বাহামা পতাকাবাহী এই জাহাজটি মার্চের শেষদিকে কাতার থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
এ ছাড়া ‘আল রাইয়ান’ নামের আরেকটি গ্যাসবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। গত ২২ মে পর্যন্ত এটি উপসাগরে অবস্থান করছিল। বর্তমানে এটি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী জলসীমা পেরিয়ে গেছে এবং আগামী ২৭ জুন চীনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ‘ঈগল ভেরোনা’ নামের একটি অতি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ শনিবার হরমুজ ত্যাগ করেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি বসরা তেল রয়েছে। জাহাজটি আগামী ১২ জুন পূর্ব চীনের নিংবো বন্দরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয় যুদ্ধ শুরুর পর ইরান নির্দিষ্ট একটি রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের নির্দেশ দেয়। চলতি মাসে ওই পথ ব্যবহার করে অল্প কয়েকটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ উপসাগর ছেড়েছে। গত সপ্তাহে তিনটি বড় জাহাজ প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
এর আগে মালয়েশিয়া ইরানের কাছে সাতটি জাহাজের প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি চেয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচটি ইতোমধ্যে উপসাগর ছেড়েছে, তবে আরও দুটি এখনো সেখানে আটকে রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। বর্তমানে শত শত জাহাজে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিক এখনো উপসাগরের ভেতরে আটকে রয়েছেন।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।