Home » অন্যান্য » ফুটবল উৎসবের জন্য প্রস্তুত বন্দরনগরী

ফুটবল উৎসবের জন্য প্রস্তুত বন্দরনগরী

বাংলার কন্ঠস্বর প্রতিবেদক :বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেটে পয়মন্ত ভেন্যু। এবার কি ফুটবল জাগরণেও নতুন একটা যাত্রা শুরু হবে চট্টগ্রাম থেকে! প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ৫ দেশরে ক্লাব নিয়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্ট ফুটবলে দর্শক খরা কাটাতে ভূমিকা রাখবে এমন আশাই আয়োজকদের। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে মাঠের লড়াই।

টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ৫ দেশের ৮টি ক্লাব অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ‘এ’ গ্রুপে আছে ঢাকা মোহামেডান ও কলকাতা মোহামেডান ক্লাব, আফগানিস্তানের বাজান এফসি ও শ্রীলঙ্কার সলিড এসসি। আর ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড, কলকাতার ইস্ট বেঙ্গল এফসি ও পাকিস্তানের করাচি ইলেক্ট্রিক। এর মধ্যে ‘বি’ গ্রুপের ৪ দল খেলবে উদ্বোধনী দিনে। বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রথম ম্যাচে করাচি এফসির মুখোমুখি হবে ঢাকা আবাহনী। আর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রতিপক্ষ ভারতের ইস্টবেঙ্গল। ‘এ’ গ্রুপের ৪ দল মাঠে নামবে বুধবার। টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল নাইন।

বুধবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং সাফ ফুটবলের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

শেখ কামাল ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সোমবার দলগুলোর কোচ ও অধিনায়কদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ক্লাবগুলোর কোচ, অধিনায়করা নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় দলগুলোর জন্য এই টুর্নামেন্ট বড় এক চ্যালেঞ্জ। এর ওপর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ও শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র নেই টুর্নামেন্টে। টুর্নামেন্টে খেলা মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনী লিগে এবার যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ হয়েছে। অপরদিকে আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী ছিল একেবারে তলানিতে; নবম স্থানে।

প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে ঘানার ডিফেন্ডার সামাদ ইউসুফ, নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা এবং নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার স্যামসন ইলিয়াসুকে নিয়েছে আবাহনী। দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাকা আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত দাস রূপু বলেছেন, ‘উদ্বোধনী ম্যাচে করাচিকে হারাতে পারলে শিরোপা জয়ের পথে একধাপ এগিয়ে যেতে পারব।’

আর কোচ অমলেশ সেন এগুতে চান ধাপে ধাপে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল।’ অধিনায়ক প্রাণোতোষ কুমার দাস বলেছেন, ‘দলের সবাই সুস্থ আছে এবং আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়াটাও বেশ ভাল। যদিও এই টুর্নামেন্টের সবাই সমীহ করার মতো দল।’

উদ্বোধনী ম্যাচে ঢাকা আবাহনীর প্রতিপক্ষ করাচি এফসিতে রয়েছেন ৪ বিদেশী; ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড জন এ্যাশওর্থ, নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার ওকপালা মাইকেল, নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার আবায়মি উইলমন এবং একই দেশের ফরোয়ার্ড আবায়মি ওলোডেই খেলছেন। ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার ইরফান খান ছাড়াও পাকিস্তান জাতীয় দলের ৪ জন খেলেন এই ক্লাবে।

দলটির ব্রিটিশ বংশদ্ভূত কোচ মাজেদ শফিক বলেছেন, ‘এই টুর্নামেন্টের সব দলই সাফ অঞ্চলের। ফলে তাদের শক্তির ব্যবধানও কাছাকাছি। এ ধরনের আমন্ত্রণমূলক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম খেলতে যাচ্ছি। সেটা স্মরণীয় করে রাখতে চাই আসরের শিরোপা জিতে ‘

আর অধিনায়ক ইসহাক বলেছেন, ‘আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি। ভুটানে এফসি কাপে খেলেছি। এ আসরের চ্যাম্পিয়ন হতে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই।’

উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ হবে স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে কলকাতার ইস্টবেঙ্গলের। শুরুতেই পরীক্ষাটা কঠিন। এএফসির ক্লাব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৪ নম্বরে ইস্টবেঙ্গলের অবস্থান। ভারতে এবং ভারতের বাইরে এ পর্যন্ত ১৩৬টি শিরোপা অর্জন করেছে তারা। সে তুলনায় দেশে-বিদেশে সাফল্যের খাতায় কোনো প্রাপ্তিই নেই চট্টগ্রাম আবাহনীর।

যদিও লিগে খেলা দলের খুব বেশি ফুটবলার নেই চট্টগ্রাম আবাহনীতে। যুক্ত হয়েছেন দেশীয় বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার। কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেছেন, ‘স্বল্প সময়ে দল গড়ায় প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতি আছে। বিশেষ করে ফিটনেসে। তবে সবাই পূর্ণ মনযোগ দিয়ে খেললে এই ঘাটতি দূর করা সম্ভব। স্বাগতিক দল হিসেবে চাপ না নিয়ে জয় দিয়েই শুরু করতে চাই।’

আর অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও ক্লাব পর্যায়ে এ ধরনের কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলিনি। এ আসরে ভাল রেজাল্টের জন্য আমরা সিরিয়াস।’

ইস্টবেঙ্গলের কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্যের আদি নিবাস বাংলাদেশের ফরিদপুরে। নিজেদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখানে চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছি। আইএসএলে আমাদের ১৪-১৫ ফুটবলার খেলছে। তবে এ জন্য আমাদের শক্তি কমে যায়নি মোটেও। যারা আছে, তারা সবাই মানসম্পন্ন।’

ইস্টবেঙ্গলে দু’জন বিদেশী ফুটবলার আছেন। একজন ডিফেন্ডার বেল্লো রাজেক। আরেকজন মিডফিল্ডার, দক্ষিণ কোরিয়ার ডো ডং হিউন। অধিনায়ক-ডিফেন্ডার দীপক কুমার সম্প্রতি ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া পুরস্কার ‘খেলরত্ন অর্জুন এ্যাওয়ার্ড-এ ভূষিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস ইস্টবেঙ্গল এই টুর্নামেন্টে অনেকদূর যাবে এবং সাফল্য নিয়ে ঘরে ফিরবে।’

 

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 111 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*