Home » অন্যান্য » রুমার সীমান্ত থেকে গুলিবিদ্ধ ‘সন্ত্রাসীর’ লাশ উদ্ধার

রুমার সীমান্ত থেকে গুলিবিদ্ধ ‘সন্ত্রাসীর’ লাশ উদ্ধার

বাংলার কন্ঠস্বর প্রতিবেদক : বান্দরবানের রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী সেপ্রুঝিড়ি পাহাড়ের অরণ্য থেকে জলপাই রঙের পোশাক পরিহিত এক সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী পাহাড়ের ঝিড়ি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। তারা জানায়, জেলার রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী সেপ্রুঝিড়ি পাহাড়ের অরণ্য থেকে জলপাই রঙের পোশাক পরিহিত এক সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, লাশটি মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গ্রুপ ‘আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)’ সদস্যের।

যৌথবাহিনী জানিয়েছে, পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে যৌথবাহিনী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে নতুন করে হেলিকপ্টারে আরও ৮৮ সদস্য পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে যৌথবাহিনী-সন্ত্রাসী গোলাগুলির ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এ সন্ত্রাসীর মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে।

যৌথবাহিনী আরও জানায়, মিয়ানমার সীমান্তে পাহাড়ের অরণ্যে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানার খোঁজে যৌথবাহিনী চারদিক থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। তবে দায়িত্বশীল কেউ আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

৪ অক্টোবর বান্দরবানের সীমান্তবর্তী রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়তলী ইউনিয়নের দুর্গম সিদ্ধুপাড়া থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয় পর্যটক জাকির হোসেন মুন্না (৩০) ও আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে (৩২)। এখনো তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের সঙ্গে নিখোঁজ হন স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইড মাংসাই ম্রো (২৮)। তারও সন্ধান মেলেনি।

১৮ দিন পরও অপহৃতদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তাদের পরিবারে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। হতাশা দেখা দিয়েছে স্বজনদের মাঝে।

অপহৃত পর্যটক জাকির মুন্নার স্ত্রী ফাতেমা তোজ জোহরা  বলেন, ‘নিখোঁজ স্বামী ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। ১৮ দিন পার হল, স্বামী কোথায় ও কিভাবে আছে; কোনো খোঁজ-খবর পাচ্ছি না। আমার মেয়ে দু’টিও বাবার জন্য প্রতিদিন কান্না করে। বাবা কবে আসবে— এ প্রশ্নের কোনো উত্তরও আমি দিতে পারছি না।’

অপহৃত পর্যটক জোবায়েরের বাবা আব্দুর রব খান বলেন, ‘আমার ছেলে কোথায় আছে, কিভাবে আছে জানি না। ১৮ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। কয়েকদিন মুক্তিপণ দাবি এবং অপহৃতদের পাওয়া গেছে— এমন গুজব শোনা গেলেও সত্যতা পাওয়া যায়নি। অপহরণকারীদের সঙ্গে স্থানীয়দের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি আমরা।’

প্রসঙ্গত, ১৮ অক্টোবর বান্দরবানের সীমান্তবর্তী সেপ্রুঝিড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আনসারের গ্রাম পুলিশের সদস্য নেসং ম্রো (৩৮) নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন সেনাবাহিনীর সৈনিক আবুল কাশেম ও আনসার সদস্য মো. হান্নান।

 

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 158 - Today Page Visits: 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*