Home » অন্যান্য » কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা কার্গো পরিষেবা শুরু

কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা কার্গো পরিষেবা শুরু

বাংলার কন্ঠস্বর প্রতিবেদক : কলকাতা-ঢাকা-আগরতলার মধ্যে কার্গোভ্যানের পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতে কোনো পণ্য পাঠাতে হলে উত্তরবঙ্গ দিয়ে ঘুরে আসতে হবে না।

পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে সরাসরি কার্গোভ্যানের মাধ্যমে পণ্যবোঝাই কার্গো-ট্রাক যশোর হয়ে যমুনা ব্রিজ হয়ে ঢাকা ঘুরে ভৈরব ব্রিজ হয়ে আখাউড়া ঘুরে পোঁছাবে আগরতলা। যা শিলিগুড়ি হয়ে আগরতলা যাওয়ার ১৫৫০ কিলোমিটার পরিচিত রুটের বদলে অনেক কম সময়ে ৬৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে।

রবিবার সকালে নবান্নে ভারত সরকারের সড়ক পরিবহন ও হাইওয়ে দফতরের সচিব বিজয় ছিব্বার, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন দফতরের সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের আধিকারিক মঈনুদ্দিন কবীরসহ বিশিষ্টজনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ভারত সরকারের কার্গো সংস্থা ডিএইচএলের মাধ্যমে এই কার্গোভ্যান পরিষেবায় এগিয়ে এসেছে। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চালু হয়ে যাবে এই পরিষেবা। বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিশেষ বিবিআইএন মোটর গাড়ি চুক্তির ফলশ্রুতিতে এটি চালু করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চারটি দেশের মধ্যে এই চুক্তি সম্পাদিত হয় এ বছর ১৫ জুন। এই কার্গো পরিষেবার ফলে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, ত্রিপুরা ও আসাম সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের সড়ক পরিবহন সচিব বিজয় ছিব্বার জানান, চারটি দেশের মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তির ফলে সীমান্তের জটিলতা কাটিয়ে খুব সহজেই দেশগুলোর মধ্যে সড়কপথে যাত্রী পরিবহন, পণ্যপরিবহন, এ্যাম্বুলেন্স চলাচল শুরু হবে। এ ছাড়াও দেশগুলোর যেকোনো নাগরিক নিজেদের গাড়ি নিয়ে সহজেই একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত অবধি যেতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসে কলকাতা থেকে সড়কপথে খুলনা যাওয়ার জন্যে বাস পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও কয়েকটি রুট চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে দুই দেশের। পাশাপাশি, কলকাতা থেকে সড়ক পথে ব্যাংকক যাওয়ার কাজও ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে।

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দুর্ভাগ্যের বিষয় ১৯৪৭ সালে দেশভাগের ফলে বাংলা দুই টুকরো হয়ে যায়। এই ধরনের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় গোটা বাংলা আবার এক হতে পারবে।

তিনি জানান, কার্গো পরিষেবার ফলে খুব কম সময়ে এবং কম খরচে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে।

বিজয় ছিব্বার স্বীকার করেন, চার দেশের মধ্যে সম্পাদিত এ চুক্তির ফলে সড়কপথে পরিবহনের যে বৈপ্লবিক ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে এর জন্য পশ্চিমবঙ্গের অবদান রয়েছে। রাস্তার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য যে জমির প্রয়োজন ছিল, তার ব্যবস্থা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

তিনি জানান, জমির সমস্যার জন্য মুর্শিদাবাদ থেকে রায়গঞ্জ অবধি জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ থমকে গিয়েছিল। তা আবার শুরু হবে। তবে এর বাজেট হাজার কোটি থেকে ছাড়িয়ে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকায় পৌঁছাবে।

 

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 146 - Today Page Visits: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*