Home » রাজনীতি » প্রার্থী নিয়ে আ’লীগের তৃণমূলে অস্থিরতা

প্রার্থী নিয়ে আ’লীগের তৃণমূলে অস্থিরতা

পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে অস্থিরতা। বিপুল সংখ্যক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। মনোনয়ন লাভের দৌড়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধও এখন তুঙ্গে। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সামনে রেখেই কেন্দ্রের সমন্বিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
আজ সোমবারের মধ্যেই ২৩৪টি পৌরসভার মেয়র প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশও রয়েছে। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভাও অনুষ্ঠিত হবে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সন্ধ্যা ৬টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৩৪টি পৌরসভায় প্রতিটি মেয়র পদের বিপরীতে গড়ে পাঁচজন বা ততোধিক প্রার্থীর আশংকা করছেন তারা। যদিও প্রতিটি পৌরসভাতেই একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে যাবে বলে আশংকা করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দলের নেতারা। কিন্তু কৌশলগত কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো শক্ত অবস্থান থেকে উদার অবস্থানে যেতে চান তারা। কোনো ক্ষেত্রে সঠিক প্রার্থী মনোনীত না হলে বঞ্চিতরাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এজন্য কাউকে বহিষ্কার করা হবে না বলে জানা গেছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে অনেক জায়গায় দলের পাশাপাশি ব্যক্তি ও পরিবারের প্রভাবের বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ একাধিক প্রার্থী অনুপ্রাণিত করবে। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, পৌরসভার নির্বাচন পুরোটা পরিচালিত হবে সাংগঠনিকভাবে। দলের পৌরসভা, থানা, জেলা এবং কেন্দ্রীয় সংসদের নেতাদের যৌথভাবে এ নির্বাচন পরিচালিত হবে। কোনোভাবেই মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেয়া হবে না। নির্বাচনী সেল করে দেশব্যাপী নির্বাচন সমন্বয়ের কাজ চলবে। সেগুলোর দায়িত্বও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে সিনিয়র নেতাদেরও দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট তৎপর রয়েছেন। এছাড়া পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে দলের রাজনৈতিক ছকও রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কর্মকা- তৃণমূলে চাঙ্গা করতে চায় দলটি। আগামী জানুয়ারীতে দশম সংসদের দ্বিতীয় বছরপূর্তিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটকে ফের নতুন নির্বাচন দাবিতে রাজপথে নামার পরিবেশ দিতে চায় না সরকারও। তাই রাজনৈতিক কৌশল নিয়েই এগুচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
এজন্য ডিসেম্বরের ৩০ তারিখের নির্বাচনকে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাচনী আমেজ দিতে চায় সরকার। যেহেতু দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাই এটাকে জাতীয় নির্বাচনের আমেজ নিয়েই মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। এতে তৃণমূলে সংগঠনের প্রকৃত অবস্থা, দলের জনপ্রিয়তা এবং জনমত যাচাইয়ের কাজটিও হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা। এছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থা ও এ নির্বাচনের মাধ্যমে উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা এই প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক থাকা, কেন্দ্র-তৃণমূল সমন্বয়ে মেয়র প্রার্থী দেয়ার মতো ঘটনা থাকছে। এ ছাড়া মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে জেলা-উপজেলার নেতাদের বোঝাপড়া না দ্বন্দ্ব রয়েছে তাও পরিষ্কার হয়ে যাবে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এবার থেকে স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন পদ্ধতি চালু হলো।
এদিকে শুধু পৌরসভার মেয়র পদেই নয়, কাউন্সিলর পদগুলোতেও একক প্রার্থী করতে চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে জেলা নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা প্রায় সবগুলো সাংগঠনিক জেলার নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 92 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*