Home » অপরাধ » মাধবপুরের অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১

মাধবপুরের অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১

অবশেষে বহুঅপকর্মের হুতা হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের ত্রাস এনাম বাহিনীর প্রধান এনাম (২৮) কে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার রাতে তাকে হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর সংলগ্ন বৃন্দাবন সরকারী কলেজ এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আব্দুল করিমের নেতৃত্বে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে তার কাছে অস্ত্র রয়েছে। পরে ডিবি পুলিশের এসআই সুদ্বীপ রায়, এসআই আব্দুল করিম ও এসআই ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে রবিবার মধ্যরাতে গ্রেফতারকৃত এনামকে সাথে নিয়ে মাধবপুর উপজেলার ওই এলাকায় অভিযান চালায়। প্রায় দুই ঘন্টা অভিযানের পর তার বাড়ির পার্শ্ববর্তি রঘোনন্দন রাবার বাগানের মিস্ত্রী’র বাড়ির সংলগ্ন এলাকার একটি ছড়ার রাবার গাছের নিচে প্রায় এক ফুট মাঠি খুড়ে একটি পাইপ গান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ গুলি উদ্ধার করে।
ডিবি পুলিশের ওসি মোক্তাদির হোসেন রিপন জানান, মাধবপুর উপজেলার হরিতলা গ্রামের নবীর হোসেনের পুত্র এনাম এলাকায় তার নাম দিয়ে একটি বাহিনী গঠন করে। আর ওই বাহিনী গঠনের পর থেকে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, রাবার ও বণাঞ্চল থেকে গাছ ও বালু পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করে। একের পর এক অপকর্ম করতে থাকে। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে সে ওই প্রতিষ্টানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এলাকার নিরীহ জনসাধারনের কয়েক একর জমি দখল করে। আর এ সুবাদে ওই প্রতিষ্টানটি তাকে সেল্টার দিতে থাকে।
এতে করে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। এছাড়াও গত কিছুদিন পুর্বে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হরিতলা গ্রামের তৈয়ব আলীর পুত্র সুজন মাহমুদকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে দু’হাতের কব্জি ও পায়ের রগ কেঠে ফেলে। এর কয়েকদিন পর তার আপন চাচাতো ভাই আব্দুল হাই’র দুই হাত-পা ভেঙ্গে ফেলে এবং তার পুকুর থেকে জোরপুর্বক মাছ ধরে নিয়ে যায়। এরপর হরিতলা গ্রামের নুর মিয়ার পুত্র ফরাস উদ্দিনকে কুপিয়ে-ক্ষতক্ষিত করে তার এবং তার বাড়িতে ডাকাতি করে, এর কয়েকদিন পর একই গ্রামের লতিফ হুসেনের পুত্র তাহির মিয়াকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে, এরপর রঘোনন্দন পাহাড় থেকে গাছ চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহপুর বিটের বিট কর্মকর্তা আব্দুর রউফ ও বন রক্ষিদের সাথে সাথে বিপুল পরিমান গুলি বিনিময় হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো রাবার বাগান থেকে রাবার ও গাছ চুরি করে এনাম।
এসময় এনামের হামলায় রাবার বাগানের কর্মকর্তাসহ ৫ জন আহত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় রেজুলেশন ও ইউনিয়ন পরিষদে রেজুলেশন করা হয়। এর পুর্বে ২০১৪ সালে একই গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র রেনু মিয়াকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে, আব্দুল গনির পুত্র মাসুম মিয়াকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে এনাম। এছাড়াও সে ওই গ্রামের নিরীহ কৃষক একরাম হুসেনের পুত্র ফজলুর রহমানের ঢাকা-সিলেট মহ-সড়কের পাশে প্রায় কয়েক কোটি টাকা মুল্যের ২ একর ২০ শতক জমি, হাফেজ মাওঃ ইউসুফ মিয়ার কোটি টাকা মুল্যের এক বিঘা জমি, হরিতলা গ্রাম বাসির জন্য নির্মিতব্য মসজিদের ১২ শতক জমি ও হোন্দাই মিয়ার কোটি টাকার ২৬ শতক ভূমি দখল করে স্থানীয় একটি বহুজাতিক কোম্পানির বিক্রি করে দেয়। তার ভয়ে এলাকার মানুষ আতংকের মধ্যে দিন কাটাত।
কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই রাত বা দিন যখনই তাদের হাতের কাছে পায় তখনই চলত বর্বোরচিত অমানসিক নির্যাতন। এদিকে উত্তরাঞ্চলের মুর্তিমান আতংক এনাম গ্রেফতার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে। স্থানীয় জনসাধারণ ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে ৩টি গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ বিভিন্ন থানায় ২২ মামলা রয়েছে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 83 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*