Home » আন্তজাতিক » আমার মা দেহব্যবসা করে: আমি যৌন কর্মীর মেয়ে !

আমার মা দেহব্যবসা করে: আমি যৌন কর্মীর মেয়ে !

বাংলার কন্ঠস্বরঃ পতিতাপল্লির অন্ধকার জগৎ তাঁরও ঠিকানা হতে পারত কিন্তু হতে দেননি তাঁর মা৷ নিয়তির পরিহাসে তিনি নিজে যৌনকর্মী হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু মেয়েকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন আলোর দুনিয়ার ঠিকানা৷ সেই মেয়ে আজ তাঁর মায়ের কথা বলতে এতটুকু কুণ্ঠিত হন৷ সোশ্যাল মিডিয়া নিজের মায়ের ভাগ্যবিপর্যের কাহিনি তুলে এনেছেন এক মুম্বইয়ে যৌনকর্মীর মেয়ে৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হিউম্যানস অফ বম্বে’ নামের এক পেজে নিজের ও মায়ের জীবনের কথা তুলে ধরেছেন এই তরুণী জানিয়েছেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে অকুল পাথারে পড়েছিলেন তাঁর মা৷ আমি যৌনকর্মীর সন্তান। আমার মা দেহবিক্রিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন৷ সকলের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা৷

তাঁর মামা তাঁদের ঘরভাড়া দিতেন বলে, পুরো পরিবারকেই শাসন করতেন৷ এমনকি বোরখা ছাড়া বাইরে বেরলে তাঁদের মারধোর করা হবে বলে হুমকিও জানিয়েছিল তরুণীর মামা৷ তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাবা মুসলিম ধর্মালম্বী হলেও কখনও গোঁড়া ছিলেন না৷ মেয়েধের পড়াশোনার ব্যাপারেও যথেষ্ঠ সচেতন ছিলেন৷ কিন্তু বাবার মৃত্যুর পরই তাঁদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

শেষমেশ তাঁর মা দেহবিক্রিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন৷ তবে মেয়েদের এ অন্ধকারে টেনে আনেননি৷ তাঁদের পাঠিয়ে দেন হোস্টলে৷ ৮ বছর পর এক এনজিও-র সহায়তায় পুরো পরিবার আবার এক হওয়ার সুযোগ পেয়েছে৷ যৌনকর্মীর সন্তান- এ কথা দুনিয়ার সামনে জানাতে কোনও কুণ্ঠা করেননি ওই তরুণী, কেননা এই পেশাতে থেকেই তাঁদের তিন বোনকেই পড়াশোনার করিয়েছেন তাঁর মা৷ নিজে অন্ধকারে থেকেও আলোয় পাঠিয়েছেন তাঁর পরবর্তী প্রজন্মকে৷ আজ এই তরুণী এক শিক্ষিকা৷

আর তাই সব যৌনকর্মীর সন্তানদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য, কেউ যেন পড়াশোনা যেন বন্ধ না করেন৷ আজ যখন সকলে তাঁকে দেখে খুশি হয়, তাঁর মনে হয় আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে তাঁকে৷ শুধু যৌনকর্মীর সন্তানদের জন্য নয়, সেই যৌনকর্মীদের জন্যও কিছু করতে চান তিনি, তাংর মায়ের মতোই অনোন্যপায় হয়ে যাঁদের বেছেনিতে হয়েছিল এই পেশা৷ লজ্জা, কুণ্ঠা নয়, দুনিয়ার সামনে এসে অন্ধকারের ধারণাই বদলাতে চান এই তরুণী৷ সূত্র: কলকাতা ২৭

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 124 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*