Home » জাতীয় » গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ। ১৯৯০ সালের এই দিনে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন হয়। দিবসটিকে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস  হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র, সংবিধান, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। স্বৈরাচারী শাসন উৎখাত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোট ও মৌলিক অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। নূর হোসেন, বাবুল, ফাত্তাহ, ডা. মিলনসহ অগণিত গণতন্ত্রকামী মানুষ আত্মাহুতি দেন। স্বৈরাচারী শাসক গণআন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় গণতন্ত্র। এ অর্জন ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর এই স্বতঃপ্রণোদিত ত্যাগ ও অধিকার রক্ষায় আপসহীনতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলনে জীবনোৎসর্গকারী দেশপ্রেমিক শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
গণতন্ত্র ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে সরকার: খালেদা
বর্তমান শাসক দল ও স্বৈরাচার এরশাদ একজোট হয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন স্বাক্ষরিত এক বাণীতে তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ৬ই ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৯০ সালের এ দিনে দীর্ঘ নয় বছরের সামরিক ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে এক সফল আন্দোলনের পর পতন ঘটেছিল তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের। তিনি ‘৮২’র ২৪শে মার্চ পেশাগত সততা ও শপথ ভেঙে বন্দুকের নলের মুখে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সাংবিধানিক রাজনীতিকে কুঠারাঘাত করেছিলেন। যে বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তার ধারাবাহিকতা ক্ষুন্ন করে ক্ষমতালিপ্সু স্বৈরাচারী এরশাদ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশকে রুদ্ধ করেছিল। কিন্তু ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে স্বৈরাচারকে পরাজিত করার এ দিনে শৃঙ্খলিত গণতন্ত্র মুক্ত হয়েছিল আমাদের  দেশে।  আজকের এই দিনে আমি ‘৮২ থেকে’ ৯০ পর্যন্ত রক্তস্নাত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি । বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছরে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে এবং গণতন্ত্রের অভিযাত্রা ব্যাহত হয়েছে গণবিরোধী শাসনের মুখে। কিন্তু এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ সকল বাধাকে অতিক্রম করে গণতন্ত্রের পথচলাকে নির্বিঘ্ন করেছে। অসংখ্য শহীদের রক্তস্নাতে অর্জিত গণতন্ত্র এখন আবারও সংকটের মুখে। বিনা ভোটের কর্তৃত্ববাদী সরকারের একদলীয় শাসনের চরিত্রগুলো ক্রমেই প্রকাশ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বর্তমান শাসক গোষ্ঠির ফ্যাসিবাদী আচরণে। তিনি বলেন, গত ৫ই জানুয়ারিতে একতরফা নির্বাচন করে আবারও সারা জাতিকে একদলীয় নিষ্ঠুর শাসনের শৃঙ্খলে বন্দি করে মানুষের সকল মৌলিক, মানবাধিকারকে বর্তমান শাসকদল তার পুরনো একদলীয় বাকশালী চেতনায় আশির দশকের গণতন্ত্র হত্যাকারী পতিত স্বৈরাচার ও ৭২-৭৫ সময়ের সন্ত্রাসীরা একজোট হয়ে দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংসের খেলায় মেতেছে। তিনি বলেন, সকল দলের মিলিত ইচ্ছায় যে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা এরা সংবিধান থেকে মুছে দিয়েছে। বর্তমান বিনা ভোটের সরকার সংবিধানে বর্ণিত জনগণের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে হরণ করেছে। দেশে আজ গণতন্ত্রের বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নেই। যে স্বপ্ন নিয়ে এদেশের মানুষ ‘৯০ সালে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছিল জনগণের সকল আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন আজ এই কর্তৃত্ববাদী সরকার তছনছ করে দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বেঈমানী করছে। ’৯০-র চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। ওদিকে দিবসটি উপলক্ষে আলাদা বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 60 - Today Page Visits: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*