Home » রাজনীতি » চূড়ান্ত লড়াইয়ে ১২০৪৪ প্রার্থী

চূড়ান্ত লড়াইয়ে ১২০৪৪ প্রার্থী

॥ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মেয়র ৬ কাউন্সিলর ১৩৪ জন ॥
দেলওয়ার হোসাইন : আসন্ন ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ১২ হাজার ৪৪ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে ৯২৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৫৩৩ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকল। এদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪০ জন প্রার্থী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রার্থীদের এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন কমিশন এসব প্রার্থী অনুযায়ী ব্যালট পেপার মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করবেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মেয়ররা হলেন- পিরোজপুর পৌরসভায় হাবিবুর রহমান মালেক, জামালপুরের মাদারগঞ্জের মির্জা গোলাম কিবরিয়া (কবির) ও টুঙ্গীপাড়ার শেখ আহম্মদ হোসেন মির্জা। ফেনী সদরে হাজি আলাউদ্দিন, পরশুরামে নিজাম উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, নোয়াখালীর চাটখিলে মোহাম্মদ উল্লাহ।
সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৪০টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। ওয়ার্ডগুলো হলো- খুলনা পাইকগাছা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড, সাতক্ষীরার কলারোয়ার ১নং ওয়ার্ড, রাজশাহী দুর্গাপুরের ১ ও ২নং ওয়ার্ড, নাটোর সদরের ২নং ওয়ার্ড, পাবনা সদরের ৩নং ওয়ার্ড, ভোলা ভোরহানউদ্দিনের ৩নং ওয়ার্ড, ভোলা দৌলতখান ৩নং ওয়ার্ড, বরিশাল বানারিপাড়া ২ নং ওয়ার্ড, পিরোজপুর সদর ২ ও ৩নং ওয়ার্ড, পিরোজপুর স্বরূপকাঠি ২নং ওয়ার্ড, কিশোরগঞ্জ সদর ৩নং ওয়ার্ড, মানিগঞ্জ সদর ১নং ওয়ার্ড, নারায়ণগঞ্জ তারাবো ১ ও ২নং ওয়ার্ড, সিলেট কানাইঘাট ২ ও ৩নং ওয়ার্ড, মৌলভীবাজার সদর ১নং ওয়ার্ড, কুমিল্লা লাকসাম ১ ও ২নং ওয়ার্ড, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম ২নং ওয়ার্ড, ফেনী সদর ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড, দাগনভুঁঞা ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড, পরশুরাম ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ১নং ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ ১ ও ৩নং ওয়ার্ড, রাউজানের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড, চন্দনাইশ ২নং ওয়ার্ড, সাতকানীয়া ২নং ওয়ার্ড। পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হওয়ার দুদিন পর নির্বাচন কমিশন সারাদেশে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করল।
এর আগে মোট মেয়র পদে ১ হাজার ২১৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৬৬৮ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯ হাজার ৭৭৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এদের মধ্যে মেয়র পদ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন ১৬২ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদ থেকে ৬৩৪ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদ থেকে ৩৪ জন প্রত্যাহার করেন। সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ৯২৩ জন। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের ২৩৪ জন, বিএনপির ২২০ জন এবং জাতীয় পার্টির ৭৩ জন, স্বতন্ত্র ২৭১, জাসদ ২০ এনপিপি ১৭, ইসলামি আন্দোলন ৫৬ ও অন্যান্য দলের ৩২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
এ বিষয়ে ইসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিব আহসান বলেন, মাঠপর্যায় থেকে তথ্য আসতে দেড়ি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু সমন্বয়হীনতার কারণে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে একটু বিলম্ব হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসি ১৪১ কোটি টাকার নির্বাচন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় সিএমএস ও আরএমএস (ফলাফল ব্যবস্থাপদ্ধতি) নামের দুটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়। বলা হয়েছিল, এ দুটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত যেকোনো নির্বাচনের প্রার্থীদের তথ্য ও ফলাফল দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে এবার তা হলো না। মঙ্গলবার কমিশন সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, অতীতের সব নির্বাচনে মুখে মুখে হিসাব করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এবার তা হলো না। তাহলে এত টাকার সফটওয়্যার দিয়ে কী কাজ হলো? এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির উপসচিব শামসুল আলম বলেন, এ বিষয়ে কমিশন সচিবালয়ের আইটি শাখার কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 80 - Today Page Visits: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*