Home » অপরাধ » ঝালকাঠিতে অর্থলুন্ঠন-পর্নগ্রাফী মামলার আসামী নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ ছাত্রলীগ সহসভাপতি গ্রেপ্তার

ঝালকাঠিতে অর্থলুন্ঠন-পর্নগ্রাফী মামলার আসামী নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ ছাত্রলীগ সহসভাপতি গ্রেপ্তার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে অর্থ লুণ্ঠন ও পর্নগ্রাফী আইনে দায়েরকৃত মামলায় জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি ও পুলিশের সদস্য মজিবুর রহমান নাকিবের পুত্র লিমন নকিব (২৮) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ বাশপট্টি এলাকার বাসিন্ধা পুলিশ কনেষ্টবলের পুত্র সুমন (২৭) গ্রেপ্তার অভিযানকালে সে সুগন্ধা নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরপূর্বে অব: শিক্ষক কাঞ্চন আলী খান বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা লিমন নকিবের নেতৃত্বে দুই নারী সহ ৫/৬ জন আসামীর বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় মামলা (নং-১৯) দায়ের করেন। শহরের গুরুত্বপূর্ন রোনালস রোড এলাকায় শিল্পমন্ত্রীর বাসার সম্মুখে ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক আগ্নেঅস্ত্র ঠেকিয়ে একজন শিক্ষককে জিম্মি করে সহযোগী মহিলাদেও সাথে নগ্ন ছবি তুলে নগদ ২৭ হাজার টাকা লুটে নেয়ার ও দুই লাখ টাকা চাঁদাদাবীর এ ঘটনায় শহর জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ ডিসেম্বর দুপুর একমাত্র পুত্র পরাগ একটি বিয়ের দাওয়াত খেতে গেলে শহরের রোনালস্ রোডে শিল্পমন্ত্রীর বাসার বিপরীত পাশের বাসিন্ধা অব: প্রাথমিক শিক্ষক কাঞ্চন আলী খানের বাসায় এক তরুনী সহ বোরকা পরিহিত এক মহিলা প্রবেশ করে। কিছুক্ষন পড়েই জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি লিমন নকিব সহ ৫ জন যুবক ঘরে ডুকে শিক্ষককে অকথ্য গালাগাল ও মারপিট করে এবং মেয়েদের নিয়ে ফষ্টিনষ্টি করার অভিযোগ তুলে মাথায় পিস্তল ও গলায় চাকু ঠেকিয়ে বাসায় থাকা নগদ ২৭ হাজার টাকা লুটে নেয়।
এক পর্যায়ে দূবৃত্তরা ৬৮ বছর বয়সী শিক্ষক কাঞ্চন আলী কে পরিধেয় প্যান্ট-শার্ট খুলে লুঙ্গী পরিয়ে লুঙ্গীর বিভিন্ন স্থান ছিড়ে দেয় আর দূর্বৃত্তদের দলের সহযোগী তরুনী সহ বোরকা পরিহিত মহিলাকে পাশে বসিয়ে বিভিন্ন ছবি তোলে ও ভিডিও ধারন করে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা লিমন নকিব ‘আগামী ২ জানুয়ারীর মধ্যে ২লাখ টাকা না দিলে তাকে খুন করে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে শিক্ষক কাঞ্চন আলীর মাথায় কোরআন শরীফ রেখে একথা কারো কাছে প্রকাশ না করার শপথ করায়’। শিক্ষক কাঞ্চন আলী খানের এক মেয়ে ঢাকার আইনজীবী, অপর মেয়ে পুলিশের এসআই, মেয়ে জামাই ওসি কর্মস্থলে থাকে এবং তার স্ত্রী ও ছেলের বৌ ঢাকা বেড়াতে যাওয়ায় বাসায় তিনি একা ছিলেন।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, দুপুর সোয়া দু’টায় দূর্বৃত্তরা চলে গেলে বিষয়টি তিনি তার মেয়েকে জানানোর পর থানা পুলিশে খবর দিলে ঝালকাঠি থানার এসআই জসিম সহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে ছোট ভাই ব্যবসায়ী নান্নু খান ও তার একমাত্র পুত্র পরাগ সহ স্থানীয় প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং খোজ খবর নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি লিমন নকিবের নেতৃত্বে এঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়।
অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী লিমন নকিব সহ তার সহযোগীরা লোক মারফত লুন্ঠিত টাকা ফেরত দেয়ার প্রস্থাব দেয়। সে অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার ছোট ভাই সহ কয়েকজনকে কাঠপট্টি বরফকল এলাকায় ডেকে নিয়ে তাদের ভূল স্বীকার করে লুটে নেয়া ২৭ হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার ফেরত দেয় ও বাকী ১১ হাজার ২৭ ডিসেম্বর ফিরিয়ে দেবে বলে জানায়। বর্তমানে তিনি আসামীদের হুমকি-ধুমকির কারনে যেকোন ধরনের হয়রানি বা জীবন নাশের আশংকায় রয়েছেন অভিযোগে জানান।
২৭ ডিসেম্বর রবিবার সকালে ঝালকাঠি থানা পুলিশ অভিযোগটি এজাহার হিসাবে নথিভূক্ত করে তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার নেতৃত্ব দেয়া জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি লিমন নকিবকে গ্রেপ্তার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে। তার বক্তব্য অনুযায়ী বিকাল ৪টায় এসআই জসিম নতুন কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন নামে এক যুবককে ধরার চেষ্টা করলে সে দৌড়ে স্থানীয় একটি স্ব-মিলের পাশ দিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাপ দেয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় স্থানীয় কিছু লোকজন সুগন্ধা নদীতে ঝাপ দেয়া সুমন নদীর পানি তলিয়ে গেছে বলে প্রচার করলেও কেউ নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে পারেনি।
এব্যাপারে নিখোজ সুমনের বাবা পুলিশের অব:কনেষ্টবল সেকান্দার আলী তার ছেলে পুলিশের ভয়ে নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোজ হয়েছে বলে দাবী করে বলেন, চাকরির সুবাদে তিনি তার ৩ ছেলে সহ পরিবার নিয়ে চট্রগ্রামে বসবাস করায় সুমন সাতার জানতো না। নদীতে পড়ে সে বাচাও বাচাও বলে চিৎকার করলেও পুলিশ তাকে উদ্ধার করেনি বা স্থানীয় কাউকে উদ্ধার করতে দেয়নি। এখোন দায় এ্যঁড়াতে তার নির্দোশ ও নিরপরাধ ছেলে সুমনকে পুলিশ শিক্ষকের বাসায় লুন্ঠন ও পর্নগ্রাফী আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামী বলে প্রচার করছে। তিনি এনিয়ে সংবাদ সম্মেলন সহ সবধরনের প্রতিবাদ করবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ওসি মাহে আলম জানায়, অর্থ লুণ্ঠন ও পর্নগ্রাফী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত লিমন নকিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ মাদকসেবী সুমন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্ট করলেও সে দৌড়ে নতুন কলাবাগান এলাকার একটি স্ব-মিলের পাশ দিয়ে নদীতে ঝাপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়। স্থানীয় কিছু লোক সুমন নদীতে ঝাপ দিলেও পানিতে ডুবে গেছে বলে দাবী করলেও কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বিষয়টির নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশের তদন্ত অব্যহত রাখা হয়েছে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 101 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*