Home » খেলাধুলা » ভারতের মুস্তাফিজ!

ভারতের মুস্তাফিজ!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

ভারতের মুস্তাফিজ? সত্যিই কি তাই? হ্যাঁ, ঘটনা সত্য! কিন্তু মুস্তাফিজ ভারতের হয়ে যাননি মোটেও। বরং ভারত খুঁজে পেয়েছে একজন ‘ভারতের মুস্তাফিজ’। মুস্তাফিজ- যিনি আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। মুস্তাফিজ নামটি ঠিক যেন এই বাক্যটিই প্রমাণ করে। আর শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, কথাটি শতভাগেই মানে ভারতীয়রাই। আর ভাববেই বা না কেন? এই মুস্তাফিজ আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন; সবই যে করলেন সেই ভারতেরই বিপক্ষে। হুট করে একজন হ্যাংলা পাতলা ছেলের উদয় হলো, যে কিনা বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইন-আপকে ঠিক তাসেরই ঘরের মত স্রেফ উড়িয়ে দিলো। আর সেই থেকেই ভারতীয়দের মনের ভেতরে গেঁথে যাওয়া নাম মুস্তাফিজ। না হোক সেটি ভালোবাসায়, কিন্তু ভয়ে তো বটেই। আর তাইতো ভারত আজকাল তাদের উদীয়মান পেস বোলারদের ভেতরে কপিল দেব, জহির খান, ওয়াসিম আকরাম বা ব্রেট লি’দেরকেও নয়, খুঁজছে বাংলাদেশের ‘মুস্তাফিজুর রহমান’কে। মুস্তাফিজের মতো একজন ‘ভুতূড়ে পেসার’ যে তাদের খুবই দরকার। আর আশ্চর্যজনকভাবে নাকি তারা ‘তাদের মুস্তাফিজ’কে পেয়েও গেছে! আর ভারতের এই মুস্তাফিজের নাম ‘বারিন্দার স্রান’ । হয়তো পুরোপুরি নয়, তবে মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বারিন্দর স্রানের গল্পটা বেশ মিলে যায়। দুজনই বাঁহাতি পেসার। দুজনের শুরুটা একেবারে অজপাড়া গাঁ থেকে। একটা পর্যায়ে ভাইয়ের সঙ্গে প্রথমে ট্রায়ালে যাওয়া। এর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় দলের দুয়ারে কড়া নাড়া। এ পর্যন্ত মুস্তাফিজের সঙ্গে স্রানের বেশ মিল। পার্থক্যটা এরপরই। আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেই সাড়া জাগিয়েছেন মুস্তাফিজ আর স্রান সবে ডাক পেলেন অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দলে। তবে এরই মধ্যে স্রানকে নিয়ে তুমুল মাতামাতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।আর স্রানকে তুলনা করা হচ্ছে মুস্তাফিজের সঙ্গে। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, পাওয়া গেছে ‘ভারতের মুস্তাফিজ’! ভারতের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম জি নিউজ তো শিরোনামই করে ফেললো , ‘ বারিন্দর স্রানের মধ্যেই কি ভারত নিজেদের মুস্তাফিজুর রহমানকে খুঁজে পেল?’ পাঞ্জাবের দাবালি গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা স্রানের ক্রিকেটার হওয়ারই কথা ছিল না। লক্ষ্য ছিল বক্সার হবেন। পত্রিকায় ছাপা হওয়া একটি বিজ্ঞাপনই বদলে দিল জীবনটা। এক বন্ধু ও ভাইকে সঙ্গে করে এসেছিলেন মোহালিতে, আইপিএলের দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে ট্রায়াল দিতে। তবে সে দফা হতাশ হয়ে ফিরতে হয় স্রানকে। ট্রায়াল দিতে আসার সময়ও বুট, জার্সি কিছুই ছিল না স্রানের। থামেননি। বরং দারুণ কিছুর প্রত্যয়ে এগোলেন সামনে। দ্রুতই জায়গা করে নিলেন পাঞ্জাবের কিংস কাপে। তখনই দৃষ্টি কাড়লেন পাঞ্জাব ক্রিকেট-কর্তাদের। সুযোগ এল মোহালি স্টেডিয়ামে অনুশীলনের। সুযোগ পেতেন আইপিএলে খেলতে আসা দলের সঙ্গে নেটে বল করার। এর পর ভারতের স্পিড স্টারের অনূর্ধ্ব-১৯ লিগে ভালো করে সুযোগ পেলেন দুবাইয়ের আইসিসি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার। ২০১১-১২ মৌসুমে পাঞ্জাবের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে ১৪ উইকেট নেওয়ার পরই চোটের কারণে গিয়েছিলেন হারিয়ে। চোট কাটিয়ে আবারও ফিরলেন ক্রিকেটে। ট্রায়ালে সুযোগ পেলেন রাজস্থান রয়্যালসে। রাজস্থানের মেন্টর রাহুল দ্রাবিড় ভীষণ চমকেই গিয়েছিলেন স্রানকে দেখে। তরুণ তুর্কির ভীষণ যত্ন নিয়েছিলেন ‘দ্য ওয়াল’। আরেক ভারতীয় তারকা যুবরাজ সিং রীতিমতো অভিভূত স্রানের বোলিংয়ে। ন্যাড়া উইকেটে বাঁহাতি পেসারের বোলিংয়ে যুবি বলে দিয়েছেন, ‘এসে গেছে আরেক জহির খান’। ১১টি প্রথম শ্রেণি ম্যাচে ৩২ উইকেট ও ৭ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ১৫ উইকেট নেওয়া ২৩ বছর বয়সী স্রান অস্ট্রেলিয়া সফরে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন মূলত এ মৌসুমের পারফরম্যান্স দিয়েই। রঞ্জি ট্রফিতে পাঞ্জাবের হয়ে এ মৌসুমে পেয়েছেন ৭ ম্যাচে ১৮ উইকেট। আর বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট। তবে এই পর্যন্ত ঠিক থাকাটাই সব নয়। স্রানকে সত্যিকারের ‘ভারতীয় মুস্তাফিজ’ হতে হলে করে দেখাতে হবে ‘মুস্তাফিজুরিয় ম্যাজিক’ ! স্রান কি পারবেন দেশীয় মিডিয়ার মান রাখতে, যারা তাকে ইতোমধ্যেই ‘মুস্তাফিজ’ আখ্যা দিয়েই দিয়েছে? সেই সাথে কথা হলো স্রানের প্রতিপক্ষ তো অস্ট্রেলিয়া, আর গত জুনে ভারতকে যেভাবে নাকানি-চুবানি খাইয়েছিলেন মুস্তাফিজ; এর পর সেই বিস্ময়ের ধারা যেভাবে ধরে রেখেছেন; স্রান ঠিক তেমনটিই পারবেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে?

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 93 - Today Page Visits: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*