Home » অন্যান্য » ধর্ম » চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ সততা

চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ সততা

সততা মানব চরিত্রের একটি শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবজীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালা ইহজগৎ ও পরজগতে তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। সত্যিকার মুমিন সততাকে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থেকে ঊর্ধ্বে মনে করেন। কেননা তারা জানেন, এটি ঈমান ও ইসলামের পূর্ণতা দান করে। সততা ও বিশ্বস্ততার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সৎ-স্বচ্ছবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গী হও।’ ( সূরা তাওবা : ১১৯)। অনেক সৎ গুণের বৈশিষ্ট্য সততা। ঈমানের ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য হলো আল্লাহ তায়ালার একত্ব, ফেরেশতা, নবী-রাসূল, পরকাল ও তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। উপরিউক্ত বিশ্বাসের আলোকে কল্যাণমূলক কাজ আনজাম দেয়া এবং আল্লাহ তায়ালার অপছন্দনীয় কাজ পরিহার করা। এ প্রসঙ্গে কুরআনে এসেছে, ‘তোমরা পূর্ব দিক কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ ফেরালে, তা কোনো প্রকৃত পুণ্যের ব্যাপার নয়। বরং প্রকৃত পুণ্যের কাজ হলো, মানুষ আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতা, কিতাব ও নবীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে মেনে নেবে। আর আল্লাহর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রিয় সম্পদ আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, পথিক, সাহায্য প্রার্থী ক্রীতদাসদের জন্য ব্যয় করবে। এ ছাড়া নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে, প্রকৃত পুণ্যবান তারাই, যারা ওয়াদা করলে পূরণ করে, দারিদ্র্য, সঙ্কীর্ণতা ও বিপদের সময় এবং হক বাতিলের দ্বন্দ্ব-সংগ্রামে পরম ধৈর্য অবলন্বন করে। বস্তুত তারাই প্রকৃত সততাসম্পন্ন, সত্যশ্রয়ী এবং তারাই সত্যিকার মুত্তাকি।’ (সূরা বাকারা : ১৭৭)। অসংখ্য হাদিসে ও সততার গভীরতার বিষয়টি ফুটে ওঠে। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়তের বিশুদ্ধতা ও সততা সাথে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনের প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদায় পৌঁছাবেন… যদিও সে বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।’ (মুসলিম)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সততা, আন্তরিকতার সাথে শাহাদত লাভ করতে চায়, শহিদ না হলেও শহীদের মর্যাদা ও সওয়াব দেয়া হবে।’ (মুসলিম)। ওপরের হাদিসের আলোকে প্রমাণিত হয়, সিদ্দিক তথা সততা বলতে আন্তরিক বিশ্বাস ও মনের ঐকান্তিকতার সাথে সেই বিশ্বাসের স্বীকৃতি বোঝায়। আর বান্দা তার সব আমল বা কাজের প্রতিফল একমাত্র আল্লাহর কাছে আশা করে। আল্লাহ তায়ালার সর্বাগ্রে বিচার্য বিষয় হচ্ছে, বান্দার আন্তরিকতা, নিয়তের বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে পুরস্কৃত করবেন।

অতএব বান্দাকে সদা সর্বদা কথা ও কাজে সততা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হবে এবং মিথ্যার অভিশাপ ও গ্লানি থেকেও বাঁচাতে হবে। রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের উচিত সততা ও স্বচ্ছতা অবলন্বন করা। কেননা সততা ও স্বচ্ছতা মানুষকে পুণ্যের পথে পরিচালিত করে। আর পুণ্য জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। কোনো ব্যক্তি যখন স্বচ্ছ কথা বলে এবং সততা ও স্বচ্ছতার গুণ বৈশিষ্ট্য অর্জন করে- তখন আল্লাহর কাছে স্বচ্ছবাদী সিদ্দিক হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। ‘আর তোমরা মিথ্যা থেকে বিরত থাক। নিঃসন্দেহে মিথ্যা পাপের দিকে চালিত করে। পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। ব্যক্তি যখন মিথ্যা বলে এবং মিথ্যায় মনোনিবেশ করে, তখন তার নাম আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।’ অতএব, প্রকৃতিগতভাবেই সৎ ও স্বচ্ছবাদী হবে এবং কখনোই মিথ্যাবাদী হবে না। এটি পাপ, অন্যায় অপরাধের মূল উৎস। মিথ্যার চর্চা ও প্রচলন ফলে মুসলিম সমাজে নিফাক, খিয়ানত ও প্রতারণার মতো নৈতিক অধঃপতনও বিকৃতি দেখা দেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দার মধ্যে সিদ্দিকিন বা সাদেকিনদের কথা নবীদের পরপর উল্লেখ করা হয়েছে। সাদেকিনদের পক্ষে উন্নতি হওয়ার লক্ষ্যে প্রত্যেক মুমিনেরই চেষ্টা-সাধনায় ব্রতী হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারি প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা: হচ্ছেন সর্বোত্তম আদর্শ ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নবুয়ত লাভের অনেক আগেই তার সততা ও বিশ্বস্ততার সুনাম সুখ্যাতি কিংবদন্তি ও মতো চার দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী নির্বিশেষে তৎকালীন সব মানুষ তাকে ‘সাদেকুন আমিন’ পরম বিশ্বস্ত স্বচ্ছবাদী উপাধিতে ভূষিত করেছিল। তিনি প্রতিটি কাজে সততা, স্বচ্ছতা, ও বিশ্বস্ততা রক্ষা করতেন। এমনকি রসিকতা ছিল স্বচ্ছ-নির্ভর। হাদিসে এসেছে, একদা রাসূলুল্লাহ সা: কাছে এক বৃদ্ধা এসে আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন আমার বেহেশতে দাখিল করেন। তিনি বৃদ্ধাকে লক্ষ্য করে বললেন, বৃদ্ধারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন না। এ কথা শুনে ওই বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে চলে যাচ্ছিলেন। হুজুর সা: সাহাবাদের বললেন, তাকে (মহিলাকে) আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। বৃদ্ধা ফিরে আসার পর তিনি বললেন, ‘তুমি কুরআনের ওই আয়াতটি কী পড়োনি। ‘আমরা তাদের (নারীদের) বিশেষভাবে পূর্ণরূপে সৃষ্টি করব এবং তাদের কুমারী বানিয়ে দেবো, তারা হবে নিজেদের স্বামীর প্রতি আসক্ত এবং বয়সে সমকক্ষ।’ (সূরা ওয়াকিয়া : ৩৫-৩৬)। এ কথা শুনে বৃদ্ধা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে চলে গেলেন। (তিরমিজি)। মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে সততা। প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য, জীবনে সততা ও বিশ্বস্ততার ফসল আহরণে তৎপর যত্নবান হওয়া; কেননা সততা ও স্বচ্ছবাদিতা আখলাকে হাসানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যার মধ্যে এ গুণের সমাহার থাকবে সমাজের সব ধরনের লোকভক্তি শ্রদ্ধা করবে। সর্বোপরি আখিরাতে আল্লাহর কাছে এর বিনিময় লাভ করবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের সততা গুণে গুণান্বিত হওয়া উচিত।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 85 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*