Home » বিনোদন » চির নিদ্রায় শায়িত খোন্দকার নূরুল আলম

চির নিদ্রায় শায়িত খোন্দকার নূরুল আলম

চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সুরের জাদুকর খোন্দকার নূরুল আলম। মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে দাফন করা হয়।

খোন্দকার নূরুল আলম ‘শুভদা’সহ বিভিন্ন ছবিতে গান তৈরি করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন একাধিকবার। পেয়েছেন একুশে পদকও। ‘চোখ যে মনের কথা বলে’, ‘এতো সুখ সইবো কেমন করে’, ‘তুমি এমনই জাল পেতেছো সংসারে’, ‘আমি চাঁদকে বলেছি আজ রাতে’, ‘কাঠ পুড়লে কয়লা হয়’, ‘এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে’ এমন অসংখ্য কালজয়ী সুর তৈরি করেছেন এ সুরস্রষ্টা।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর। শনিবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল তাকে। তার একান্তই কাছের মানুষ ও প্রিয় মানুষেরা এসে ছিলেন শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। উপস্থিত ছিলেন তার দীর্ঘ জীবনের সহকর্মী গীতিকার রফিকুজ্জামান।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক ঘণ্টা শ্রদ্ধা জানানো শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে বাদ-জোহর জানাযা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে দাফন করা হয়।

প্রিয় সহকর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে রফিকুজ্জামান বলেন, ‘যার কাছে আমার জীবন সর্বতভাবে ঋণী তার সম্পর্কে বলা আমার পক্ষে কঠিন। কী হারালাম তা অনুভব করা দরকার। হয় তো তরুণরা ভাবতে পারছে না, আজ তারা কার স্পর্শ থেকে বঞ্চিত হলো।’

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম বলেন, ‘অবিনাশী সুরে স্রষ্টা খোন্দকার নুরুল আলম। একজন স্রষ্টাকে যে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এর উদাহরণও তিনি।’

আক্ষেপ প্রকাশ করে সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান বলেন, ‘আমি একজন গুরুকে হারালাম। হতাশার বিষয় হলো যে, এ দেশের মানুষ সেভাবে তাকে বুঝল না।’

ঘনিষ্ঠ স্বজন খ্যাতিমান অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান বলেন, ‘তার মতো এমন আত্মসচেতন মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। কোনো অন্যায়কে কোনোদিন ছোট করে দেখেননি। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি বলেই চির অভিমানে জীবন কাটিয়েছেন। আমি এমন নির্মোহ বন্ধু হয়তো পাব না। বাংলাদেশ হয়তো এমন মেধা ও মননশীল মানুষ পাবে না। তাঁর করা সুরে কণ্ঠ বসিয়ে অনেকেই বিখ্যাত হয়েছেন অথচ আজ চলে যাবার দিনে তেমন কেউ নেই।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘তার প্রতিভার প্রকাশ তার গানে ও সঙ্গীত পরিচালনায়। কে শ্রদ্ধা জানাতে আসলাম, আর কে আসল না- সেটা বিষয় না। তিনি তার কাজের জন্যই বেঁচে থাকবেন।’

খ্যাতিমান এই শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন সুজেয় শ্যাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, শিল্পী ফকির আলমগীর, গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী, কবির বকুল, সঙ্গীতশিল্পী রফিকুল ইসলাম, সঙ্গীত পরিচালক ফুয়াদ নাসের বাবু প্রমুখ।

সংগঠনের পক্ষে ফুলের শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সংস্থা, শিল্পকলা একাডেমী, মিউজিশিয়ান ফোরাম, বাংলার মুখ, ক্রান্তি ও বহ্নিশিখা। তার আত্মার শান্তি কামনা করে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 56 - Today Page Visits: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*