Home » লিড নিউজ » প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রচিত উন্নয়নের ক্যানভাস

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রচিত উন্নয়নের ক্যানভাস

ঢাকা: স্বপ্ন জাগানিয়া এক ভাষণ জাতির উদ্দেশ্যে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতি জানলো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কথা, রাজনৈতিক সহনশীলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলার কৌশলের কথা, দেশের অব্যাহত উন্নয়নের কথা, আর সেই উন্নয়নের সোপান ধরে ২০২১ সালে পূর্ণ মধ্য আয়ের দেশ আর ২০৪১ সালে একটি উন্নত বাংলাদেশ নিশ্চিত করা হবে তারই অঙ্গীকার। পুরো ভাষণের মধ্য দিয়ে ২০১৪ থেকে ’৪১ পর্যন্ত উন্নয়নের ক্যানভাস রচিত হলো। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠনের দুই বছরের পূর্তিতে ১২ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) এই বক্তব্য তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে যে ঘৃণ্য ও পৈশাচিক সন্ত্রাস চালায় তার ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, এই নৃশংসতা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হায়েনা ও তাদের দোসরদের নির্মমতার সাথেই কেবল তুলনা করা চলে।

এমনই এক ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতেই দেশকে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেন শেখ হাসিনা। সেই দিনগুলোর কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোটের সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমার শিকার হয়ে নিরীহ বাসড্রাইভার, বাস-টেম্পো-সিএনজি যাত্রী, প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ-বিজিবি-আনসার, সেনাবাহিনীর সদস্য, এমনকি স্কুলের শিক্ষক ও শিশুও নিহত হয়েছে। অনেকে আগুনে দগ্ধ হয়েছেন, জীবনের তরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন।

দেশবাসির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্ত্রাস বোমাবাজি উপেক্ষা করে সেদিন আপনারা গণতন্ত্রকে বিজয়ী করেছিলেন। আর সে কারণেই দেশগড়ার সুযোগ তৈরি হয়। জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে তার সরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেল, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ডিজিটাইজেশন, এমডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জন, জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব মোকাবেলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও পুরস্কারে ভূষিত করছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, এই উন্নয়ন সহ্য হয়নি বিএনপি-জামায়াতের । আর সে কারণেই ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি তারা আবারও দেশে সন্ত্রাস, সহিংসতা শুরু করে। সারাদেশে তাণ্ডব ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। পেট্রোলবোমায় ২৩১ জন নিরীহ মানুষ নিহত এবং ১ হাজার ১৮০ জন আহত হয়। ২ হাজার ৯০৩ টি গাড়ি, ১৮টি রেল গাড়ি ও ৮টি লঞ্চে আগুন দেয়।

পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাঙচুর এবং ৬টি ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। জনগণকে ভোগান্তিতে রেখে, অমানবিক কষ্ট দিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন করে বিএনপি নেত্রী নাটক করে ৬৮ জনকে নিয়ে আরাম আয়েশে ৯২ দিন অফিসে থাকেন। হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডবের হুকুম দেন।

তাদের সেই সন্ত্রাসের উদ্দেশ্য ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং বিএনপি নেত্রী আদালত হাজিরায় অনুপস্থিত থাকা। কিন্তু সেই সন্ত্রাসী কর্মকা- জনসমর্থন পায়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অগ্নি-সন্ত্রাসীদের আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিচার কাজ চলছে। যারা আপনাদের আপনজনকে কেড়ে নিয়েছে, জানমালের ক্ষতিসাধন করেছে সেই অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবেই।

দেশের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে একটু পেছনে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন ছিল বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, চরম খাদ্যাভাব। বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন. দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং পরের দুই বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দমননীতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল বিপর্যস্ত, বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। কিন্তু তার সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে সবক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনি। মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসে।

সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা।
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল, বলেন শেখ হাসিনা।

দেশের অর্থনীতি এখন জিডিপি’র ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম, মাতৃসূচকে ১৩০তম, বিশ্বশান্তি প্রতিবেদনে ৮৪তম আর ইকোনমিস্ট- সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৫তম, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিকে আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুনের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন যাতে তিনি বলেছেন: ‘দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে’।

বিশ্বের খুব কম দেশই একটানা এত দীর্ঘ সময় ধরে ৬ শতাংশের উপর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে সে কথা গর্বের সঙ্গে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন অচিরেই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

দেশ যে এরই মধ্যে মধ্য আয়ের স্তরে সে কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জানিয়ে দেন, চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলার। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন-আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। আর অতি দারিদ্রের হার নেমে এসেছে ৭.৯ শতাংশে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে দেড় কোটি মানুষের চাকুরি দেওয়া হয়েছে। তার সরকারের সময়ে ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৮ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। আর তারই বদৌলতে ২০০৬ সালের যে রেমিট্যান্স আয় ছিল মাত্র ৪.৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রপ্তানি আয় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ৩২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৪ হাজার ৭৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ১০০ অতিক্রম করেছে। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। রাশিয়ার সহায়তায় ১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৪০০ মেঘাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প – রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র – স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

তুলে ধরেন গ্যাসের খতিয়ানও। বলেন, ২০০৬ সালে গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন ছিল মাত্র ১৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০১৫ সালে গ্যাস উৎপাদন গড়ে দৈনিক ২ হাজার ৭২৮ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।

জাতিকে জানিয়ে দেন, সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। যার মধ্যে ১৬টির কাজ চলছে।

প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম নির্মাণ প্রকল্প পদ্মাসেতুর কাজ চলছে। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে, ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর। পাশাপাশি যোগাযোগ খাতে উন্নয়নে ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী উড়াল সেতু, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান উড়াল সেতু, বনানী ওভারপাস, মেয়র হানিফ উড়াল সেতু, টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু এবং চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট উড়াল সেতু উদ্বোধনের কথা তুলে ধরেন। জানিয়ে দেন, মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসেতুর নির্মাণ কাজ অচিরেই শেষ হবে। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে। নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা সড়ক এবং ঢাকা-চট্রগ্রাম এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক ৪-লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জের ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণের উদ্যোগের কথাও জাতিকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে নতুন স্বপ্ন দেখা প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাওয়া, শিবচর ও জাজিরাকে ঘিরে আধুনিক স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলা হবে। যার মধ্য দিয়ে মাদারিপুর, শরীয়তপুর ও কেরানিগঞ্জ জেগে উঠবে নতুন উদ্যমে।

দেশবাসিকে সচেতন বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের সে নামেই সম্বোধন করে বলেন, তার সরকারের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য-শস্য উৎপাদন হয়েছে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত।

আমরা এখন চাল রপ্তানি শুরু করেছি, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের বর্তমানে শিক্ষার হার ৭১ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকার গত ৭ বছরে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ১৯২ কোটি বই বিতরণ করেছে। এবছরই ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭২২ টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও উপ-বৃত্তি আওতায় আনা হয়েছে। ২৬ হাজার ১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকুরি সরকারি করা হয়েছে। সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ১৭২ টি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর। নতুন ১১ টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ চালু করা হয়েছে।

আর স্বাস্থ্যসেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। মানুষ বিনামূল্যে ৩২ পদের ঔষধ পাচ্ছেন। সাড়ে ১২ হাজারের বেশি ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ পেয়েছে। আরও ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে।
দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭১ বছরের বেশী। শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার কমেছে।

সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। ৫ হাজার ২৭৫ টি ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ২০০ ধরণের ডিজিটাল সেবা দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল সীম গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। ইন্টারনেট গ্রাহক ৫ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজারের বেশি। আশা করা হচ্ছে ২০১৬ সালেই মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপন করা হবে।

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এবং যশোরে হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। বিভাগী

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 62 - Today Page Visits: 1