Home » রাজনীতি » প্রধানমন্ত্রীর ‘সাক্ষাতে’ চলে জাতীয় পার্টি!

প্রধানমন্ত্রীর ‘সাক্ষাতে’ চলে জাতীয় পার্টি!

ঢাকা: জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে এখন চলছে উত্তরাধিকার মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব। এর একদিকে জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, অন্যদিকে এরশাদের স্ত্রী ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। ফলে জাপায় মঞ্চায়ন হচ্ছে একের পর এক নাটক।

এই নাটকীয়তায় আজ এরশাদপন্থীরা শক্ত অবস্থানে তো কাল বিরোধীদলীয় নেতা রওশনপন্থীরা। আর এই ‘শক্ত অবস্থান’-এ থাকার বিষয়টি নির্ণীত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ পাওয়ার ওপর।

এই যেমন এরশাদের এক ঘোষণায় কদিন ধরে জাপায় শক্ত অবস্থানে ছিল এরশাদপন্থীরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রওশন এরশাদের সাক্ষাতের পর সেটি কিছুটা ঝুলে গেছে রওশনপন্থীদের দিকে। এখন এরশাদপন্থীরা আশা করছেন, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন এরশাদ। তখন কম্পাসের কাঁটা আবার তাদের দিকে ঘুরে যাবে।

জাতীয় পার্টিতে এরশাদ ও রওশনের ‘রাজনৈতিক দাম্পত্য’ দ্বন্দ্ব নতুন নয়। বিশেষ করে সরকারে থাকা-না থাকা নিয়ে দুজনের মতভিন্নতা বেশ পুরনো। এরশাদ আপাতত চান সরকার থেকে বেরিয়ে প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে। আর সরকার ও বিরোধী দল্- দুই ভূমিকাতেই থাকতে চান রওশন।

এই কারণে ইদানীং এরশাদ তার জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তিনি না থাকলে জাপার আলাদা অস্তিত্ব নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে তার মধ্যে। তাই তিনি তার অবর্তমানে দলের হাল ধরার জন্য ভাই জি এম কাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বানিয়েছেন দলের কো-চেয়ারম্যান। জাপার যেসব নেতা চান, সরকার থেকে বেরিয়ে আসুক দল, তাদের অন্যতম জি এম কাদের।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে কিংবা সিদ্ধান্ত দিয়ে নিত্যই আলোচনায় থাকা জাপার চেয়ারম্যান এরশাদ ১৭ জানুয়ারি রংপুরে হঠাৎই এক সংবাদ সম্মেলন করে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এরশাদ বলেন, “দলের স্বার্থে জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করলাম। আমার অবর্তমানে সে জাপার হাল ধরবে।”

এরশাদের এ সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ রওশনপন্থীরা ১৮ জানুয়ারি তাকে (রওশন) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষণা করে। রওশনের বাসায় এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ ঘোষণা দেন তখনকার মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু।

পরদিন বনানীর কার‌্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারাবলে বাবলুকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে ওই পদে দায়িত্ব দেন এরশাদ।

সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, “মন্ত্রিসভায় জাপার তিনজন মন্ত্রী থাকায় জনগণ আমাদের বিরোধী দল ভাবছে না। আমাদের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিশেষ দূত করে আমাকেও সম্মানিত করেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অচিরেই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করব।” পদত্যাগের পর আবার মুক্ত রাজনীতি করে জনগণের আস্থা অর্জন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এরপর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দলের দুই পন্থীদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নানা তৎপরতা দেখা গেছে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিতে। এর মধ্যে তাৎর্যপূর্ণ ছিল জাপার এই উত্তরাধিকার-দ্বন্দ্ব নিরসনে রওশনপন্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুই পক্ষই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রওশন এরশাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর জাপায় দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। কেননা বৈঠক শেষে রওশন এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টির সদস্যরা মন্ত্রিসভায় আছে ও থাকবে। মন্ত্রিসভা থেকে সরে আসবে না তারা।

দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, ওই বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা সম্প্রতি দলের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান এরশাদের মনোভাব ও তার ভূমিকার বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন।

জাপার একাধিক সূত্র জানান, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন না এমন সিদ্ধান্তে আগে থেকেই অনড় জাপার তিন মন্ত্রী। এরশাদ তাদের মন্ত্রিত্ব ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হবে না। এরই মধ্যে গতকাল রওশন এরশাদ জানিয়ে দিলেন, তারা মন্ত্রিসভা ছাড়ছেন না।

জাপার একাধিক সূত্র জানান, এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রওশন এরশাদ দলের মধ্যে তার নিজের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে চান। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তাও চেয়েছেন বলে সূত্রটি জানায়।

সূত্র আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যেকোনো সময় জাপা চেয়ারম্যান এরশাদেরও বৈঠক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এরশাদের বৈঠকের পরই মূলত পরিষ্কার হবে জাপার উত্তরাধিকার-দ্বন্দ্ব কোন দিকে মোড় নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির তিনজন সংসদ সদস্য বলেন, “দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান দলের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও আমরা ম্যাডামের সঙ্গে আছি, তার কারণেই আমরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তাই আমরা তার সাথে রয়েছি। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটা আমরা মেনে নেব।”

এ বিষয়ে জানতে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 83 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*