Home » লাইফ স্টাইল » প্রেমিক থাকলে বিয়ের আগেই প্রতিটা মেয়ের ‘বাঁচতে হলে জানতেই হবে’ যে বিষয়গুলো !

প্রেমিক থাকলে বিয়ের আগেই প্রতিটা মেয়ের ‘বাঁচতে হলে জানতেই হবে’ যে বিষয়গুলো !

প্রেমের সম্পর্ক তবুও হেলায় কাটিয়ে দেবার সুযোগ একটু-আধটু থাকে, কিন্তু সেই সম্পর্ক গড়িয়ে যখন বিয়ে নামক দৃঢ় সম্পর্কের দিকে যায় তখন পিছু পা হবার সুযোগ খুব একটা থাকেনা আমাদের জীবনে। প্রেম-ভালোবাসার মুহূর্তগুলোতে স্বভাবজাত কারনেই আবেগের প্রাধান্য থাকে অনেক বেশি, কিন্তু বিয়ে পরবর্তি বাস্তবতায় সেসব আবেগ যে রীতিমত ‘দৌড়ে পালায়’ সে কথা শোনেনি এমন মানুষ বুঝি খুজলেও মিলবেনা খুব একটা । তবে এসব কথা শুনতে শুনতে আমরা হয়তো বেশরকম অভ্যস্তই হয়ে পড়ি, তাই খুব একটা আমলে নিয়ে সেই থেকে বিবেচনা সুলভ কোন সিদ্ধান্ত খুব একটা নিতে দেখা যায়না বেশিরভাগ মানুষকেই ।

এতকিছুর পরেও প্রেমের সিজন কাটিয়ে বিয়ে নামক বজ্র আটুনির আগেই যারা চোখ-কান খোলা রাখে অর্থাৎ হৃদয় দিয়ে নয়,  বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে যারা সিদ্ধান্ত নেয় তারা পরবর্তী জীবনে ‘ সুখি হয়নি ‘ এমন কথা কেও বলতে পারবেনা একেবারেই  ।

বর্তমান সময়ে টিন এজার থেকে শুরু করে প্রায় সববয়সী নারী-পুরুষের প্রেম পরবর্তী বিয়ের সম্পর্ক ভাঙছে আনুপাতিক হারে। বরং এই হিসেব এখন আশংকাজনক হারেই বলা যায় । তাই এমন সব বিপত্তির আগেই সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠিকাদের জন্য আজকের পরামর্শ বিষয়ক ফিচার। মাত্র একজনও যদি এখান থেকে উপকৃত হোন তবেই আমাদের সার্থকতা ।

আপনার বয়ফ্রেন্ড/প্রেমিক  কি আপনাকে বুঝতে পারেন? খুব বেশি ঝগড়া হয়? সম্পর্কের সব দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হয়। তবে কিন্তু বিয়ের আগে অবশ্যই দ্বিতীয় বার ভেবে দেখুন। এই ধরনের আচরণ ইমম্যাচিওরিটির লক্ষণ। তাই এই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার থেকে বেরিয়ে আসাই ভাল। জেনে নিন কী কী লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার বয়ফ্রেন্ড ইমম্যাচিওর।

১। বিবেচনার অভাব- আপনার বয়ফ্রেন্ড কি সব দিক বিবেচনা করে কাজ করেন? কোনও কাজ করার আগে বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যদের দিকটাও ভাবেন কি? এ রকম আচরণ কিন্তু ইমম্যাচিওরিটির লক্ষণ। সম্পর্কের কিছু দায়িত্ব থাকে। এই ধরনের আচরণ দায়িত্ব বোধের অভাব বোঝায়।

২। আপনার মুড অফ থাকলে- কোনও কারণে যদি আপনার মুড অফ থাকে, কিছু ভাল না লাগে বা মন খারাপ হয় তা হলে উনি কেমন আচরণ করেন? অবসাদের সময়ে আপনাকে বুঝতে পারেন? এই সময়গুলোই কিন্তু বোঝাপড়া তৈরি করে। মন খারাপ থাকলে যদি উনি আপনাকে গুরুত্ব দেন, বোঝার চেষ্টা করেন, তা হলে বুঝতে হবে আপনি সঠিক মানুষের সঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু যদি আপনাকে না বুঝতে পারেন, এমন কিছু করেন যাতে আপনার আরও মুড অফ হয়ে যায়, তা হলে বুঝতে হবে উনি এখনও অতটা পরিণত নন।

৩। দায় এড়ানো- ঝগড়া হলে কি উনি সব সময় আপনার ঘাড়ে দোষ চাপান? একে অন্যকে দোষারোপ সম্পর্ক বিষিয়ে দেয়। যদি দেখেন উনি সব সময় আপনাকেই দোষী করছেন, নিজে কোনও ভাবেই দায় নিচ্ছেন না বা ভুল বুঝতে পারছেন না, তা হলে অবশ্যই আপনার বয়ফ্রেন্ডটি ইমম্যাচিওর।

৪। অযথা রাগানোর চেষ্টা- উনি কি আপনাকে অযথা রাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন? এমন কাজ বার বার করেন যাতে আপনি রেগে যান বা আপনি পছন্দ করেন না। কোনও মহিলার সঙ্গে অযথা ফ্লার্ট করেন যাতে আপনি বিরক্ত। অপরিণত মানুষরা গুরুত্ব পাওয়ার জন্য এই কাজগুলো করে থাকেন। সঙ্গী যে এতে কতটা বিরক্ত হন তা এরা বোঝেন না।

৫। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো- সম্পর্কে থাকতে হলে একে অপরকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। ইমম্যাচিওর মানুষরা এটা বোঝেন না। যদি দেখেন আপনার সঙ্গী আপনার সঙ্গে সময় কাটানোর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি আগ্রহী, তা হলে বুঝতে হবে উনি এখনও সিরিয়াস সম্পর্কে থাকার মতো ম্যাচিওর নন।

৬। নিজের কাজ নিজে করতে না পারা- পরিণত, দায়িত্বশীল মানুষরা নিজেদের কাজ নিজেরা বুঝে নিতে পারেন। নিজেদের দায়িত্ব নিতে পারেন। আপনার সঙ্গীর কি সব কিছুতেই আপানর সাহায্য প্রয়োজন হয়? উনি কি নিজেকে সামলাতে পারনে ঠিকঠাক? না কি একা কিছু করতে হলেও ভুলভাল করে ফেলেন? সম্পর্কে প্রথম দিকে এটা অনেকের ভাল লাগে। নিজেকে অন্যের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এটা বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। এটা চরম ইমম্যাচিওরিটির লক্ষণ।

৭। কথা না বলা- ঝগ়়ড়া হলে উনি কী করেন? নিজের কথা, ভাবনা আপনাকে বোঝাতে চেষ্টা করেন না কি পুরোপুরি কথা বলা বন্ধ করে দেন? ইমম্যাচিওর মানুষরা এটা করেই থাকেন। কথা বলা বন্ধ করে দিলে ঝামেলা তো মেটেই না বরং তা আরও জটিল হয়।

৮। হুক আপ- সব সম্পর্কেই কিছুটা সময় মজা করে কাটানো উচিত্, সেক্সের জন্য সময় দেওয়া উচিত্। কিন্তু সিরিয়াস সম্পর্কে আরও অনেক কিছু প্রয়োজন। দু’জনে এক সঙ্গে কাজ করা, একে অপরকে বোঝার জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। যদি দেখেন আপনার বয়ফ্রেন্ড সব সময় মজা করেই সময় কাটাতে চাইছেন, সেক্সের ছুতো খোঁজেন তবে মোটেই ভাল লক্ষণ না।

৯। জীবনে লক্ষ্যের অভাব- আপনার বয়ফ্রেন্ডের জীবনে কি কোনও লক্ষ্য রয়েছে? নিজের পায়ে দাঁড়ানো, কেরিয়ার তৈরি করা, জীবনে দায়িত্ব নেওয়া এ সব নিয়ে ভাবেন উনি? নাকি শুধুই মজা করে আলস্যে সময় কাটান? এমনটা হলে কিন্তু চিন্তার বিষয়।

১০। কে কী বলছে- উনি কি সব সময় অন্যেরা কী ভাবছেন, তাই নিয়ে চিন্তিত? নিজের ইমেজ নিয়ে, অন্যরা ওনাকে নিয়ে কী ভাবছেন তা নিয়ে ভাবতে থাকেন তা হলে ইমম্যাচিওরিটির লক্ষণ স্পষ্ট। আত্মবিশ্বাসের অভাব, কনফিউজড চরিত্রের পরিচয় এটা।

উপরোল্লিখিত বিষয়ের সাথে যদি আংশিক নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনার বয়ফ্রেন্ড অথবা প্রেমিকের আচরণে মিল থাকে তাহলে প্লীজ সতর্ক হয়ে যান। মনে রাখবেন ‘ জীবন  কিন্তু একটাই, মাত্র একবারের জন্যই আপনি এসেছেন এই পৃথিবীতে’ । এই এক জীবনে ধুকে ধুকে কাটিয়ে চলার খুব একটা মানে কিন্তু একদমি হয়না। এবার,  সিদ্ধান্ত আপনার

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 57 - Today Page Visits: 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*