Home » বরিশাল » বরিশালে অসময়ের মিলছে ইলিশ

বরিশালে অসময়ের মিলছে ইলিশ

বরিশাল অফিস : ইলিশের ভর মৌসুম (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) ছাপিয়ে অসময়ে ইলিশ মিলছে বরিশালে। একইসঙ্গে হিমায়িত করার উপযোগী হওয়ায় বাজার দর অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে খুশি ক্রেতারা। বিক্রেতারাও রয়েছেন স্বস্তিতে।

অসময়ে ইলিশ মেলার ঘটনাকে ‘মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষা কার্যক্রমের ফল’ বলে মনে করছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।

ইলিশ গবেষণা প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিছুর রহমান বললেন, ‘ইলিশ সারা বছরই ডিম পাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তন বা নদীর গতি পথ পরিবর্তনের প্রভাব এড়িয়ে মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় প্রটেকশন দেওয়াতে এবারে হারিয়ে যাওয়া মৌসুমে ইলিশের দেখা মিলছে।’

পৌষ থেকে ফাল্গুন মাসের ইলিশের মৌসুম কেমন করে বদলে গেল এ কথা জানান প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী ও জেলা মৎস্য আড়ৎদার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত কান্তি দাস।

তিনি জানান, আশ্বিন মাসের প্রথম পূর্ণিমার পাঁচ দিন আগে ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রধান মৌসুম বলে বিবেচিত হতো। এই হিসেব মেনে জেলেরা নৌকা,জাল গুটিয়ে বাড়িতে ফিরতেন। তারা আবার মধ্য পৌষে ফের মাছ ধরতে নামতেন। স্বাধীনতার পর এসব নিয়ম উপেক্ষিত হয়ে সারা বছরই ইলিশ ধরায় দুই দশক ধরে পৌষ থেকে ফাল্গুন মৌসুমে ইলিশের দেখা মেলা দুষ্কর হয়ে উঠে।

তবে গেল বছর প্রধান মৌসুমে ইলিশের দেখা মেলেনি তেমন। সেই সময় বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গড়ে চার থেকে পাঁচশ মণ ইলিশ এসেছিল। আর হঠাৎ করে পৌষ মাস থেকে প্রধান মৌসুমের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ইলিশ আসায় তিনি মনে করছেন, ‘পৌষের মৌসুম বুঝি ফিরে এসেছে।’

জেলা মৎস্য অধিদফতর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বরিশাল জেলায় চার বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালের চেয়ে ২০১৫ সালে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ ভাগ। জাতীয় পর্যায়ে এই প্রবৃদ্ধির গড় হার হল ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

বরিশাল জেলায় ২০১৫ সালে ইলিশ পাওয়া গেছে ৩১৪০০ মেট্রিক টন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘নদ-নদীতে ইলিশের সংখ্যা কমে আসায় মৎস্য অধিদফতরের টনক নড়ে। চার বছর ধরে তারা মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকায় মাইনর সিজনে ইলিশের দেখা মিলেছে। মৎস্য বিভাগের কারেন্ট ও পাই জালের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রাখায় এবং জাটকা রক্ষায় আইন প্রয়োগের ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।’

তিনি জানান, এখন যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে এর বেশিরভাগ সাড়ে ৩০০ গ্রাম থেকে সাড়ে ৬০০ গ্রাম ওজনের।

ড. ওয়াহিদুজ্জামান মনে করছেন, আর মাসখানেক পর এসব ইলিশ আহরণ করলে ৯০০ গ্রাম ওজনের হতো এবং হিমায়িত করা যেত, পাওয়া যেত বাড়তি মূল্য।

ভোলার দৌলত খাঁ থেকে আসা পাইকার মো. আবুল হোসেন মুন্সি বলেন, ‘কারেন্ট ও পাই জালের সংখ্যা কমে আসায় এখন জিরো সূতার জালেই মাছ পড়ছে বেশ। একটি ৮ সদস্যের জেলে নৌকায় (সাভার) প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার টাকার মাছ মিলছে।’

তবে ভোলা থেকে আসা আরেক পাইকার মাহে আলম বহু বছর পর হঠাৎ করে মূল সিজনের চেয়ে বেশি মাছ পড়ার ঘটনাকে ভিন্ন চোখে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘উজান থেকে আসা বালু পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গভীরতা কমে যাওয়ার কারণে ডিম পাড়ার পর ইলিশ সাগরে যেতে পারেনি। তাই মেঘনায় ছোট সাইজের ইলিশের প্রচুর দেখা মিলেছে। এই ইলিশে মেদ জমেনি বলে খেতে তেমন স্বাদ নেই।’

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘ইলিশের চরিত্র অন্য সকল মাছ থেকে ভিন্ন। এরা দল বেঁধে চলাচল করে। দেখা গেছে মেঘনায় ইলিশের দেখা মিলেছে বেশ তবে পদ্মায় তেমন খবর নেই। কোন পথে চলবে এটা ওদের মর্জির ওপর নির্ভর করে।’

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 78 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*