Home » লিড নিউজ » শিক্ষকদের কর্মবিরতি স্থগিত, ফিরছেন ক্লাসে

শিক্ষকদের কর্মবিরতি স্থগিত, ফিরছেন ক্লাসে

স্টাফ রিপোর্টারপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের প্রেক্ষাপটে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে বৈষম্য এবং অবনমনের প্রতিবাদে চলমান কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনস্থ মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যাল শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে সেখানে ফেডারেশনের শিক্ষক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়। দাবি আদায়ের বিষয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যালোচনা সভা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করার মাধ্যমে বুধবার থেকে ক্লাসে ফিরছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা।
অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ফেডারেশন নেতৃবৃন্দের সাথে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় সবাই ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার আশ্বাসের প্রেক্ষাপটেই এই কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করা হল। তবে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। এটাও আন্দোলনের একটা অংশ। শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যালোচনা সভা করা হবে। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে এবং কোনো চক্রান্ত হলে ওই সভা থেকে পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটা প্যাকেজ প্রস্তাব দিয়েছি। এর আলোকে দাবি মানার ক্ষেত্রে কোন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কোনো কোনো আমলার কূটকৌশলের কারণে, খণ্ডিতভাবে বা বিলম্ব হলে ফেডারেশনের শিক্ষকেরা তা গ্রহণ করবে না। তার সাথে সংশ্লিষ্টদেরও গ্রহণ করবে না। শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করেই দাবি মানার বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। না হলে মনে করব সেখানেও শিক্ষকদেরকে অবহেলা করা হয়েছে।
ফেডারেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আটজন শিক্ষক নেতা এবং সচিবদের উপস্থিতিতে সভা হয়। সেখানে আমরা স্পষ্টভাবে সবগুলো দাবি জানিয়েছি। সচিবরা যেসব যুক্তি দিয়েছে সেগুলোও খণ্ডন করেছি। প্রধানমন্ত্রী সবগুলো ব্যাপার দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি শিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারেরও আহবান জানান। এসব বিষয়গুলো ফেডারেশনের সভায় আলোচনা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর চা এবং পিঠার দাওয়াতে গণভবনে যান শিক্ষক নেতারা। সেখানে অনুষ্ঠানের চলাকালীন সময়ের মধ্যে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে কর্মবিরতির বিষয়ে ফেডারেশনের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছিলেন। তার প্রেক্ষাপটেই সভা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হল।
দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে নিজেদের মর্যাদা রক্ষা এবং সকল বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে গত ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা শুরু করেছিলেন। মঙ্গলবার এই আন্দোলন কর্মসূচির নবম দিন ছিল। শিক্ষকেরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার না করায় মঙ্গলবারও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো ক্লাস হয়নি। তবে মঙ্গলবার বিকেলে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়ায় বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত রোববার বিশ্ববিদালয় শিক্ষকেরা তাদের পূর্বঘোষিত দাবির আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুটি প্রস্তাব দেন। যার মধ্যে সিনিয়র অধ্যাপকদের মধ্য থেকে ৫ শতাংশকে সিনিয়র সচিবের সমান মর্যাদা এবং ২৫ শতাংশ অধ্যাপককে গ্রেড-১-এর সমান মর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। সিনিয়র অধ্যাপক যারা হবেন তাদের ‘ডিস্টিংগুয়িশ প্রফেসর’ হিসেবে অভিহিত করা হবে। তারা তাদের মেধা-যোগ্যতার নিরিখেই এ পর্যায়ে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাদের গবেষণা ও ডিগ্রিসমূহ মূল্যায়ন করা হবে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 95 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*