Home » তথ্য-প্রযুক্তি » ৩০ টাকায় ভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সেবা

৩০ টাকায় ভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সেবা

বাংলার কন্ঠস্বরঃ নম্বর অপরিবর্তিত রেখে মোবাইল অপারেটর পরিবর্তনের (এমএনপি) সুযোগ দ্রুতই পাচ্ছেন গ্রাহকরা। মাত্র ৩০ টাকায় ভিন্ন অপারেটরে চলে গিয়ে সে অপারেটরের সেবা গ্রহণ করা যাবে।

বাংলানিউজকে এমনটাই জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর)  বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদনের পর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হলে যথা শিগগিরই ওপেন দরপত্র আহ্বান করা হবে।

গ্রাহকদের জন্য মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলানোর সুযোগ করে দিতে এ সংক্রান্ত নীতিমালায় সম্প্রতি অনুমোদন দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ওপেন টেন্ডারে দেশি-বিদেশি যে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। তবে আমাদের মোবাইল অপারেটররা অংশ নিতে পারবে না।

কত দিনের মধ্যে গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন- জানতে চাইলে তারানা হালিম বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দরপত্র আহ্বান এবং সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে দরপত্র যাবে। যেহেতু টাওয়ারসহ অন্যান্য অবকাঠামো আছে, সুতরাং খুব দ্রুত ও সহজে চালু করতে পারবো।

এমএনপি চালু হলে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন কানেকটিভিটির মধ্যে থাকবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবার মান বাড়াতে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও তৈরি হবে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে গ্রাহকরা বেস্ট প্রাইজের সুফল পাবেন।

নম্বর অপরিবর্তিত রেখে ৩০ টাকায় গ্রাহকরা ৪০ দিন অন্য অপারেটরের সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানান তারানা হালিম। তিনি বলেন, এর মধ্যে আবার আগের অপারেটরে আসতে হলে ফি দিতে হবে।

নীতিমালা অনুমোদনের পর প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আগামী বছরের শুরুতেই গ্রাহকরা এমএনপি সুবিধা পাবেন।

টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি জানায়, এমএনপি সুবিধা চালু করতে অপারেটর হিসবে বিটিআরসি একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেবে। এজন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।

নম্বর না বদলে গ্রাহকদের অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ২০১৩ সালে জুন মাসে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। সংস্থাটি জানায়, অপারেটরদের টু-জি লাইসেন্স নবায়নের সময় গাইডলাইনে অপারেটররা মিলে এমএনপি চালু করবে বলে লেখা ছিল। কিন্তু অপারেটররা সঠিক সময়ে এমএনপি চালু করতে পারেনি।

এরপর বিটিআরসি একটি নতুন গাইডলাইন তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অনুমোদনের পর দরপত্র ও লাইসেন্স এবং লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান বিষয়টি অপারেট করবে।

নির্দেশনা জারির তিন মাসের মধ্যে অপারেটরদের এমএনপি সেবা শুরু করার জন্য একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে প্রি-পেইড, পোস্ট পেইড উভয় ধরনের গ্রাহককেই এই সুবিধা দেওয়ার কথা।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এমএনপি সুবিধা পাচ্ছেন গ্রাহকরা। বিভিন্ন অপারেটরের অফারে একজন গ্রাহক এক অপারেটর ছেড়ে প্রায় সময়ে অন্য অপারেটরে চলে যান। এতে গ্রাহকদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। এছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারীর পরিচয়ের মাধ্যম হিসাবে রূপ নেয়। এ অবস্থায় গ্রাহকের জন্য এই সেবা চালু করতে অপারেটরদের নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি।

গ্রাহক পর্যায়ে এমএনপি সেবা পাওয়ার অগ্রগতি তুলে ধরতে সচিবালয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 106 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*