Home » অন্যান্য » শিল্প ও সাহিত্য » জন্মদিনে কবি জীবনানন্দ দাশকে শ্রদ্ধা

জন্মদিনে কবি জীবনানন্দ দাশকে শ্রদ্ধা

ঢাকা : ‘মাছরাঙা চলে গেছে—আজ নয় কবেকার কথা;/ তারপর বারবার ফিরে এসে দৃশ্যে উজ্জ্বল।/ দিতে চেয়ে মানুষের অবহেলা উপেক্ষায় হয়ে গেছে ক্ষয়;/ বেদনা পেয়েছে তবু মানুষের নিজেরও হৃদয়’…

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন আজ। ১৮৯৯ সালের এই দিনে তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক। মা কুসুমকুমারী দাশ সাংসারিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে কবিতা রচনা করতেন। যিনি ১৮৯৫ সালে লিখেছিলেন ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।’ জীবনানন্দ মায়ের কাছ থেকেই সাহিত্যচর্চা ও কবিতা রচনার প্রেরণা লাভ করেন।

১৯৫২ সাল থেকে তার কবিতা প্রবাসী, বঙ্গবাসী, কল্লোল, কালি-কলম, বিজলী, ধূপছায়া, প্রগতি প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশ হতে থাকে।

কবি জীবনানন্দ দাশ ১৯২২ সাল থেকে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯২২-২৮ সাল পর্যন্ত কলকাতা সিটি কলেজ, ১৯২৯ সালে বাগেরহাট কলেজ, ১৯৩০-৩১ পর্যন্ত দিল্লি রামযশ কলেজ, ১৯৩৫-৪৬ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিএম কলেজ, ১৯৫১-৫২ খড়গপুর কলেজ, ১৯৫৩ সালে বরিশাল কলেজ এবং ১৯৫৩-৫৪ সালে হাওড়া গার্লস কলেজে অধ্যাপনা করেন।

কবির রচনাবলি : কাব্যগ্রন্থ-ঝরা পালক (১৯২৭), ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬), বনলতা সেন (১৯৪২), মহাপৃথিবী( ১৯৪৪), সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮), রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। গদ্যগ্রন্থ : কবিতার কথা। মৃত্যুর পর তার প্রকাশিত উপন্যাস মাল্যবান, সতীর্থ।

নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলন ১৯৫২ খিস্টাব্দে পরিবর্তিত সিগনেট সংস্করণ বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থটি বাংলা ১৩৫৯-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বিবেচনায় পুরস্কৃত করা হয়। কবির মৃত্যুর পর ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৪) সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করে।

১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর রাতে কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে কবি মৃত্যুবরণ করেন।

১১৭তম জন্মদিনে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশকে শ্রদ্ধা।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 59 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*