Home » জাতীয় » বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি -আওয়ামী লীগ ১০৬, বিএনপি ৫০

বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি -আওয়ামী লীগ ১০৬, বিএনপি ৫০

শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিরোধ মেটানো যায়নি। ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় প্রথম ধাপের ৭৩৯টি ইউপি নির্বাচনের বেশক’টিতেই প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলকেই নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলাতে হবে। এ অবস্থায় চিন্তিত দলীয় সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরাও।

প্রথম ধাপের ৭৩৯টি ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল সোমবার। এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে সব জায়গাতেই উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা হয়।

তবে দিন শেষে অধিকাংশ জায়গাতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো দলীয়ভিত্তিতে ও দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে বিভিন্ন এলাকায় বড় দু’দলেই বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য দেখা গেছে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গতকাল শেষ দিনে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থীই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়ার অনড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৭৩৯টি ইউপিতে ঠিক কতগুলোয় দল দুটির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন ব্যুরো এবং জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী আওয়ামী লীগে ১০৬ এবং বিএনপিতে ৫০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রায় দু’সপ্তাহের প্রচেষ্টার পর সব ইউপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নামও ঘোষণা করে তাদের হাতে দলীয় প্রত্যয়নপত্রের চিঠিও তুলে দেওয়া হয়। দু’দলের নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো অবস্থায়ই কোথাও যাতে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে না পারেন, তার জন্য নানা পদক্ষেপও নিয়েছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল থেকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা এমনকি বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। তবে দলের এ হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে অনেকেই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।

সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনেও বড় দু’দল থেকে অসংখ্য বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার ইউপি নির্বাচনেও একই রকম প্রবণতা দেখা দেওয়ায় শঙ্কায় পড়েছেন দল মনোনীত প্রার্থীরা। বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের জয়লাভে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবেন- এমন আশঙ্কায়ও ভুগছেন অনেকেই।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪৭ প্রার্থী। এ ছাড়া সদস্য পদে ৩৭৯ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০৪ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কয়রা সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এসএম শফিকুল ইসলাম ও জিএম মতিউর রহমান। আমাদি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়েছেন আবদুস সাত্তার পাড়। মহারাজপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা হচ্ছেন মাস্টার সদর উদ্দীন আহমেদ ও জহুরুল হক বাচ্চু। মহেশ্বরীপুরে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিজয় কুমার সরদার ও উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ কাজল।

ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ৬৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও আবদুস ছালাম মাঝি, গুটুদিয়া ইউনিয়নে কাজী নুরুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ভাণ্ডারপাড়া ইউনিয়নে গোপাল চন্দ্র দে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। শরাফপুর ইউনিয়নে শেখ রবিউল ইসলাম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। সাহস ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির জয়নাল আবেদীন ও আওয়ামী লীগের শেখ আবদুল কুদ্দুস।

শোভনা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মতিয়ার রহমান বাচ্চু ও আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য। রুদাঘরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মো. তহিদুল ইসলাম। খর্নিয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এসএম মেহেদী হাসান। রূপসা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯ প্রার্থী। এর মধ্যে নৈহাটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আবু আহাদ হাফিজ বাবু, টিএসবি ইউনিয়নে বিদ্রোহী হয়েছেন মোরশেদুল আলম বাবু।

বটিয়াঘাটা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৯ প্রার্থী। এর মধ্যে জলমা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের ভগবতী গোলদার ও উত্তম কুমার রায় এবং বিএনপির আবদুস সাত্তার আকন। বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মনোরঞ্জন মণ্ডল, গঙ্গারামপুরে হয়েছেন শিবপদ মণ্ডল, রণজিৎ রায় ও রামপ্রসাদ রায় এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আবদুল গণি বিশ্বাস।

দাকোপ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৩১ প্রার্থী। এর মধ্যে দাকোপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সঞ্জয় কুমার মোড়ল, লাউডোব ইউনিয়নে সরোজিত রায়, কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নে দুর্গাপদ মণ্ডল, সুতারখালী ইউনিয়নে জিএম আশরাফ হোসেন ও দেবপ্রসাদ বৈদ্য। কামারখোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সমরেশ চন্দ্র রায়, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে জালাল উদ্দিন গাজী, বাজুয়ায় বিএনপির দেবপ্রসাদ গাইন। মংলা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ১৫ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন দুটি ইউনিয়নে। এর মধ্যে বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সুভাষ চন্দ্র রায়। এ ছাড়া চিলা ইউনিয়নে শেখ সফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

বগুড়া ব্যুরো, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের ৩১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৬০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বগুড়ার দুটি উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে ৬৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৬৬ জন এবং বাদবাকি ৩ জন দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে তাদের প্রার্থিতা দাখিল করেন। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতেই ওই দুটি দলের বিদ্রোহীরা তাদের মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন। এমনকি একই ইউনিয়নে উভয় দলের দু’জন করে বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে। ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নে নাসির উদ্দিন মাহমুদ নাজির (বিদ্রোহী, আওয়ামী লীগ), গাজী আনিছুর রহমান (বিদ্রোহী, বিএনপি) ও শামিম আহম্মেদ (বিদ্রোহী, বিএনপি), পাঙ্গাশী ইউনিয়নে আলমগীর হোসেন খান (বিদ্রোহী, আওয়ামী লীগ), ধুবিল ইউনিয়নে আবদুল করিম (বিদ্রোহী, আওয়ামী লীগ) এবং সোনাখাড়ায় আবদুল মজিদ তালুকদার (বিদ্রোহী, আওয়ামী লীগ)।

পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত ১৮ জনসহ মোট ৪২ জন তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ৭টি ইউনিয়নে উভয় দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও তাদের প্রার্থিতা দাখিল করেছেন।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের ৪২ চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী ৫ ও বিএনপির ৩ প্রার্থী রয়েছেন। জালালাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আস্রাব আলী ও বিএনপির ইসলাম উদ্দিন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী না থাকলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মনোহর আলী। মোঘলগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিরণ মিয়া ও বিএনপির আহমদ আলী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই ইউনিয়নে দুই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগ ঘরানার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম টুনু মিয়া স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

খাদিমনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তারা মিয়া ও বিএনপির ইলিয়াছ আলী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী না থাকলেও বিএনপির বিদ্রোহী হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন। হাটখোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খুর্শিদ আহমদের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন চাঁন মিয়া। বিএনপির আজির উদ্দিন। কান্দিগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাজাদ মিয়া। বিএনপির আহমদ আলী। টুলটিকর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মছবি্বরের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলী হোসেন। এই ইউনিয়নে বিএনপির একক প্রার্থী হয়েছেন মুহিবুর রহমান। খাদিমপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বেলালের পাশাপাশি বিদ্রোহী হয়েছেন অ্যাডভোকটে আফসার উদ্দিন। এই ইউনিয়নে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ফারুক আহমদ। টুকেরবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এক প্রার্থী আলতাফ হোসেন ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শহীদ আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন জয়।

বরিশাল বু্যুরো জানায়, বরিশাল জেলার একমাত্র নারী চেয়ারম্যান উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের উর্মিলা বাড়ৈ দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে গতকাল বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ওটরার সাবেক হাফিজুর রহমান ইকবাল পরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে উপনির্বাচনে ওটারার চেয়ারম্যান হন আ. খালেক রাঢ়ী। উজিরপুরের বরাকোঠায় আলম হাওলাদার ও সাতলায় আকতার হোসেন হিরু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। উজিরপুরে বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের মনোনয়ন বঞ্চনার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর ইকবালকে দায়ী করেছেন।

হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহজাহান তালুকদারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আমিন ও স্থানীয় নেতা মোস্তফা জামাল। হরিণাথপুরের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাফ খানের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান তৌফিকুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর সরদার। উপজেলার অপর সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার নাসির হোসেন দলের মনোনয়ন পেলেও তার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হাসান মৃধা। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন হতে যাওয়া আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সাত ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সদর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিজামউদ্দিন আহম্মেদ, চানপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, স্থানীয় নেতা বাহাউদ্দিন ঢালী, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে শিল্পপতি আবদুল কাদের ফরাজী, ভাষানচরে নেতা মজিবর প্যাদা, বিদ্যানন্দপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার শীল, চরগোপালপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমির হোসেন চৌকিদার। মুলাদী উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা হচ্ছেন সদর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, কাজিরচরে ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ আলী, নাজিরপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান শরিফ মজিবর রহমান, বাদল খান, কুতুব উদ্দিন ও মিজানুর রহমান। বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মহসিন ও ভরপাশা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান খোকন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় আঙ্গারিয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ গোলাম মতুর্জা, পাঙ্গাশিয়ায় অন্য সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মুরাদিয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. রাজ্জাক প্যাদা দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে গতকাল চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাউখালী সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. দেলোয়ার হোসেনসহ ছয় নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এ ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন। তার বিরুদ্ধে অন্য চার বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান, কৃষক লীগের উপজেলা আহ্বায়ক চন্দন কুমার দে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল কুণ্ডু, যুবলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন টিটু। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর বিদ্রোহী ছয় প্রার্থী যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তালুকদার দেলোয়ার হোসনকে দল মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করা হলে অন্য পাঁচজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন। পিরোজপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন- নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ আলী মুন্সী ও সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জাহিদুল ইসলাম বিলু, মলিখোলা ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টিপু সুলতান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার হালদার ও যুবলীগ সভাপতি দীপঙ্কর সমাদ্দার, শাঁখারিকাঠি ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন সজল, শেখমাটিয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান আতিয়ার।

ময়মনসিংহ ব্যুরো জানায়, ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় ছনধরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. উবায়দুল হক, বিএনপি প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, জাতীয় পার্টির জুলহাস আহমেদ। রামভদ্রপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মো. দুদু মিয়া, বিএনপি প্রার্থী মো. রোকনুজ্জামান রোকন। ভাইটকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলাল উদ্দিন মুন্সী, বিএনপি প্রার্থী আবদুল আহাদ মাস্টার, বিএনপির বিদ্রোহী আমিনুল হক বাবুল। সিংহেশ্বর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শাহ আলী, বিএনপির আমিনুল ইসলাম তালুকদার, বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. আবদুল মোতালেব। ফুলপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুল হাসান রানা, বিদ্রোহী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, রেজাউল করিম রাসেল, বিএনপি প্রার্থী মাদিউর রহমান মাহাদী, বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান খোকা, জাহাঙ্গীর আলম, মো. আবুল কালাম। পয়ারী ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী মফিদুল ইসলাম, বিদ্রোহী আবু মন্নাফ সরকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. এনামুল কবির। রহিমগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী শেখ একরামুল হক পান্না চৌধুরী, বিদ্রোহী প্রার্থী শামছুল আলম খান, আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু সাইদ সরকার। রূপসী ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম তালুকদার, বিদ্রোহী মোস্তাক সরোয়ার নিপুন ফকির, আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান শাহ সুলতান ফকির, বিদ্রোহী আমির উদ্দিন তালুকদার।

শেরপুর :শেরপুর জেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বন্দনা চাম্বুগং, বিদ্রোহী মো. আজাদ মিয়া, বিএনপির ওমর ফারুক, বিদ্রোহী মো. রবিউল আলম ও মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। নন্নীতে আওয়ামী লীগের বিল্লাল হোসেন চৌধুরী, বিদ্রোহী মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও মো.আবদুল হাই আজাদ, বিএনপির আবদুর রশীদ সরকার, বিদ্রোহী মো. আবুল কাশেম ও মো. মাহবুুবুর রহমান রিটন। রাজনগরে আওয়ামী লীগের ফারুক আহমেদ বকুল, বিদ্রোহী তানজিল আহম্মদ রিমন, বিএনপির আতাউর রহমান, বিদ্রোহী হাতেম আলীসহ ৭ জন প্রার্থী হয়েছেন। নয়াবিলে আওয়ামী লীগের নুর ইসলাম, বিএনপির ইউনূস আলী দেওয়ান। রামচন্দ্রকুড়া মণ্ডলিয়াপাড়ায় আওয়ামী লীগের আমান উল্লাহ বাদশা, বিদ্রোহী মো. খোরশেদ আলম খোকা, বিএনপির ফজলুল হক দেলোয়ার। কাকরকান্দিতে আওয়ামী লীগের শহিদুল্লাহ মুকুল, বিদ্রোহী মো. নাজিমউদ্দিন, বিএনপির আনিসুর রহমান। নালিতাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান, বিএনপির আশরাফ আলী, বিদ্রোহী মিজানুর রহমান মিজানসহ ৪ জন। রূপনারায়ণকুড়ায় আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান, বিএনপির আবদুর রহমান তারা। মরিচপুরানে আওয়ামী লীগের শফিক আহমেদ ও বিএনপির আইয়ুব আলী। যোগানিয়াতে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হবু, বিএনপির ছামিদুল মুন্সি। বাঘবেড়ে আওয়ামী লীগের আবদুস সবুর, বিএনপির আমিনুল ইসলাম জিন্নাহ। কলসপাড়ে আওয়ামী লীগের মো. আবুল কাশেম, বিএনপির কামরুজ্জামান খসরু।

নেত্রকোনা :খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের গোলাম আবু ইছহাক, বিদ্রোহী সানোয়ারুজ্জামান জুসেফ, বিএনপির মাহবুবুর রহমান, মেন্দীপুর ইউনিয়নে লোকমান হেকিম, বিদ্রোহী আলমাস উদ্দিন সরকার, বিধানকৃষ্ণ কর্মকার, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আবু হাকিম পাখি, বিএনপির আজহারুল ইসলাম নান্টু, চাকুয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ, বিদ্রোহী নুরুল হুদা চৌধুরী জুয়েল ও মো. কুদ্দুস মিয়া, বিএনপির মির্জা জিয়া উদ্দিন জিয়া, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে নাজিম উদ্দিন সরকার, বিদ্রোহী মোর্শেদুল ইসলাম, বিএনপির আবদুর রহমান আজাদ আকবরী, বিদ্রোহী দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, নগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের হরিধন সরকার, বিদ্রোহী প্রণয় ভৌমিক, বিএনপির ডা. শচীন্দ্র চন্দ্র সরকার, গাজীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ আতাউর রহমান।

জামালপুর :জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত হাবিবুর রহমান চৌধুরী শাহীন, বিদ্রোহী জয়নাল আবেদিন। বিএনপির রফিকুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম :রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনায় ইদ্রিস আজগর (আওয়ামী লীগ), ইলিয়াস কাঞ্চন চৌধুরী (বিদ্রোহী), জাহাঙ্গীর আলম (বিদ্রোহী), নজিবুল হক (বিএনপি), শামসুল আলম কন্ট্রাক্টর (বিএনপি বিদ্রোহী)

গোপালগঞ্জ :গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ১০ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান শৈলেন বাইন, ডুমুরিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শুখময় বাইন, হাসমত আলী কিনু, বন্দে আলী শেখ, মৃণাল কান্তি বিশ্বাস; বর্ণি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান ফায়েক মিয়া, পাটগাতী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী মাসুদুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. রফিকুজ্জামান শেখ প্রার্থী। এ ছাড়া পাটগাতী ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. জাকারিয়া ও কুশলী ইউনিয়নে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে তাজুল ইসলাম মোল্লা প্রার্থী হয়েছেন। প্রথম ধাপে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 80 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*