Home » অর্থ ও বানিজ্য » বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরিতে প্রভাবশালী মহল ও সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরিতে প্রভাবশালী মহল ও সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রভাবশালী মহল ও একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। এটা হ্যাকিংয়ের ঘটনা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গোপন সুইফট কোড, কার্ড ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই পুরো লেনদেন হয়ে থাকার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বাইরের কারো কাছে এই তথ্য দিয়ে ঘটানো হয়েছে এই লেনদেন বলে মনে করছে অর্থমন্ত্রণলায়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ বিষয়গুলোকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক হয়েছে গতকাল বুধবার।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব ড. এম আসলাম আলমসহ অন্যান্য পরিচালকরা যোগ দেন। অর্থ কিভাবে গেল, কারা কারা জড়িত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা আছে কি না, সরকারের বিভিন্ন মহলে জানানো হয়নি কেন, সর্বশেষ অবস্থা কি ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে জিজ্ঞাসা করেছে পরিচালকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের একাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে গত ৫ ফেব্রুয়ারি। হ্যাকড হওয়া অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন যায় ফিলিপাইনে। বাকি ২০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কায়।

সূত্র জানায়, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে পৃথিবীর সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান লেনদেন করে সুইফট কোডের মাধ্যমে। কর্তৃপক্ষ এই সুইফট কোড লেনদেনের জন্য ঝুঁকিমুক্ত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এই সফটওয়্যারটি হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে হয় নির্দিষ্ট কোড, কার্ড ও সংকেতের মাধ্যমে। এই কোড দিয়ে তথ্য প্রেরণ করার পরেই পুরো তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরিবর্তন হয়ে নতুন সাংকেতিক চিহ্নে রুপান্তরিত হয়। এভাবেই বদলাতে বদলাতে সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে রিসিভার কম্পিউটারে পৌঁছে যায়। রিসিভার কম্পিউটার পুনরায় সিঙ্কক্রোনাইজ হওয়া তথ্য প্রেরণকারী সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তথ্য উদ্ধার করে। পুরো প্রক্রিয়াটা নিরাপদ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে সুইফট প্রক্রিয়াটি অর্থ লেনেদেনে সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এর বাইরেও নতুন লেনদেনের জন্য সর্বশেষ লেনদেনের একটি সাংকেতিক চিহ্ন দিতে হয়। যা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগের তিন সেকশনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাই জানেন।

ফেডারেল ব্যাংকের লেনদেন প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় কয়েকটি ধাপের পরে পুরো লেনদেন পক্রিয়া সম্পন্ন হয় দ্রুত। টাকার এত বড় অঙ্ক এক ব্যক্তির একাউন্টে স্থানান্তর হওয়ায় ফেডারেল ব্যাংকের সন্দেহ হয়। তখনই বাংলাদেশ ব্যাংককে কনফারমেশনের জন্য অর্ডার দেয় ফেডারেল ব্যাংক। ঘটনাটি রাতে হওয়ায় তৎক্ষণাৎ ধরতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। পরে বিষয়টি জানতে পারলে ফেডারেল ব্যাংককে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্রের দাবি, লেনদেনের মাধ্যমেই হউক বা হ্যাকড হয়েই টাকা চুরি করা হোক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে তাকে প্রবেশ করতেই হবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের কোর ব্যাংকিংয়ের একটি জায়গা হল ফরেক্স রিজার্ভ বিভাগ। তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এই কাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়।

সূত্র জানায়, পুরো প্রক্রিয়াটি কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে তা এখন খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা যাচাই-বাছাই করে দেখছে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে একাধিক বৈঠক করছেন দেশের সাইবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সুইফট কোডের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করার সময় কিছু টার্ম এন্ড কন্ডিশন থাকে। কিছু লিগ্যাল বিষয় আছে। আমরা পুরো প্রক্রিয়াটা খতিয়ে দেখব। তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে। তা দেখেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত থাকতে পারে এমনটা ধরে নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 80 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*