Home » জাতীয় » সুন্দরবনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৪ ‘বনদস্যু’ নিহত

সুন্দরবনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৪ ‘বনদস্যু’ নিহত

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

সুন্দরবনে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন চার বনদস্যু নিহত হয়েছেন।

 

র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম বলছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালি চান্দেশ্বর এলাকায় বনদস্যু দল ‘নয়ন বাহিনীর’ সঙ্গে ‘গোলাগুলির’ এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- ওই দস্যুদলের ‘প্রধান’ মনির (৩৫) এবং তার সহযোগী এনাম (৩৫), গিয়াস (৩৩) ও হাসান (৩২)। তাদের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায়।

 

অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, সাড়ে চারশ গুলি এবং কিছু ধারালো অস্ত্র পাওয়ার কথা র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 

অভিযানের খবর দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা পর একটি ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের সরবরাহ করে র‌্যাব। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জঙ্গলের মধ্যে গুলি ছুড়তে এবং অস্ত্র উদ্ধার করতে দেখা যায়। তবে ভিডিও করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

 

 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদ জানান, কয়েক দিন আগে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ১৯ জেলেকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে নয়ন বাহিনীর দস্যুরা। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান শুরু করে।

 

“আজ ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কচিখালি চান্দেশ্বর এলাকায় অভিযানে গেলে সেখানে অবস্থানরত বনদস্যুরা গুলি ছোড়ে। যৌথ দলের সদস্যরা পাল্টা জবাব দিলে প্রায় ৪০ মিনিট গোলাগুলি চলে। পরে দস্যুরা বনের গভীরে পালিয়ে গেলে তল্লাশি চালিয়ে চারজনের লাশ ও পরিত্যক্ত অস্ত্র পাওয়া যায়।”

 

স্থানীয় জেলেরা নিহতদের লাশ দেখে তাদের নয়ন বাহিনীর সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে বলে র‌্যাবের ভাষ্য।

 

র‌্যাব অধিনায়ক ফরিদ বলেন, মনির ও তার দলবল দীর্ঘদিন ধরে দস্যুতা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। মনির সুন্দরবন এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন বনদস্যু।

 

নিহত চারজনের বিরুদ্ধেই বাগেরহাটের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকার কথা বলেছেন তিনি।

 

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে চারটি একনলা বন্দুক, দুটি দোনলা বন্দুক, চারটি কাটা রাইফেল, ছয়টি ওয়ান শুটার গান ও দুটি বিদেশি এয়ার রাইফেল, বিভিন্ন ধরনের ৪৫০টি গুলি, মোবাইল ফোনের সিমসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকার কথা র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

 

শরণখোলা থানার ওসি মো. শাহ আলম মিয়া জানান, এসব সরঞ্জাম ও চারজনের মরদেহ র‌্যাব পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

এ ঘটনায় র‌্যাব-৮ এর উপ সহকারী পরিচালক (ডিএডি) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ এবং অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করেছেন।

 

ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহিভূর্ত হত্যার অভিযোগ র‌্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করে আসছে।

 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই ‘এলিট বাহিনী’ ভেঙে দিয়ে একটি নতুন ‘বেসামরিক’ বাহিনী গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছে।

 

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী গতবছর কেবল র‌্যাবের হাতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 44 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*