Home » লিড নিউজ » খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের অবরোধ চলছে

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের অবরোধ চলছে

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

বকেয়া পরিশোধের জন্য হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণার পরও খুলনায় রাষ্ট্রয়াত্ত সাতটি পাটকলের শ্রমিকরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করেছেন, বন্ধ রয়েছে পাটকলের উৎপাদন।

 

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে তাদের এই সকাল-সন্ধ্যা কর্মসূচি শুরু হয় বলে পাটকল শ্রমিক সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন জানান।

 

আগের দিন শ্রমিকদের অবরোধ চলার মধ্যেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনকে (বিজেএমসি) এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের নির্দেশ দেন।

 

ওই অর্থ দিয়ে সারাদেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের কর্মীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

 

“বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পহেলা বৈশাখে বোনাস পেয়ে সারা দেশের মানুষ আনন্দ উৎসব করবে, আর আমার পাট শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা না পেয়ে থালা-বাসন নিয়ে বসে থাকবে- এটা মানতে পারছি না’,” বলেন প্রতিমন্ত্রী।

 

পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ, ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাসহ পাঁচ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকরা বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

 

এসব দাবিতে সাতটি পাটকলের প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক গত ৫ এপ্রিল থেকে কাজ বন্ধ রেখে প্রতিদিন আট ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ শুরু করেন।

 

এর তিন দিনের মাথায় খুলনার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধানের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে সমধান না হওয়ায় সোমবার আবারও উৎপাদন বন্ধ রেখে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ শুরু করেন শ্রমিকরা।

 

সরকারের ওই ঘোষণা আসার পর, সিবিএ নেতা সোহরাব সোমবার বলেন, মঙ্গলবার পাট মন্ত্রাণালয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে তারা জানতে চাইবেন শ্রমিকদের মুজরি কতোটা পরিশোধ করা হচ্ছে, পাটখাতে কত টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, মহার্ঘ ভাতার জন্য কতো বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

 

দাবি অনুযায়ী বরাদ্দ পেলে আন্দোলন স্থগিত করা হবে বলে তিনি সে সময় জানিয়েছিলেন।

 

এই অবরোধের কারণে আগের দিন খুলনা-যশোর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।

 

আর রেলপথ অবরোধের কারণে খুলনার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগও ব্যাহত হয় বলে স্টেশন মাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 67 - Today Page Visits: 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*