Home » জাতীয় » ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ বাংলাদেশ সরকার’

‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ বাংলাদেশ সরকার’

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

রানা প্লাজা ট্রাজেডির তিন বছর পরও বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে ভীতিকর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে সব আইনী বাধা জরুরি ভিত্তিতে দূর করা উচিত সরকারের। যেসব গার্মেন্টস কারখানা শ্রমিক ইউনিয়নের বিরোধী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

 

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রেকর্ড করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ। তারা তদন্ত করতেও ব্যর্থ হয়েছে। এসব কথা বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে।

 

‘বাংলাদেশ: গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন রাইটস ব্লিক’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,  সলিডারিটি সেন্টার ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা প্রামাণ্য হিসেবে হাজির করেছে। এতে বলা হয়েছে, একই গ্রুপের আরেকটি কারখানার কর্মচারীসহ একদল লোক এক ইউনিয়ন নেতাকে প্রহার করে। এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়া হলে পুলিশ তা নিবন্ধনে ব্যর্থ হয়। ২০১২ সালে হত্যা করা হয় বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নেতা আমিনুল ইসলামকে। এখনও এর যথাযথ তদন্ত হয়নি। দীর্ঘ ওই প্রতিবেদনে ২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ট্রাজেডির উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ট্রাজেডিতে কমপক্ষে ১১০০ শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অনেকে। ওই বছরই জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ইউরোপিয় ইউনিয়নের সঙ্গে ‘সাসটেইনাবিলিটি কমপ্যাক্ট’-এর প্রতিশ্রুতি দেয়। এতে শ্রম আইন সংস্কারের কথা বলা হয়। এখনও আইন ও শাসন ব্যবস্থা শ্রম অধিকারকে শাসন করে এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলোতে এখনও শ্রমিক ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আছে।

 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়ার বিষয়ক উপ পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, রানা প্লাজার ভিতরে যেসব কারখানা ছিল তার কোনটিতেই শ্রমিক ইউনিয়ন ছিল না। যদি শ্রমিকদের কণ্ঠ সেদিন জোরালো হতো তাহলে হয়তো ম্যানেজারকে মোকাবিলা করা সম্ভব হতো, যিনি ওই ভবনে ফাটল থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের কাজে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ৪ হাজার ৫ শতাধিক গার্মেন্টের মধ্যে শতকরা প্রায় ১০ ভাগের নিবন্ধিত ইউনিয়ন আছে। অনেক কারখানার শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বার বারই তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

এ মাসেই বাংলাদেশের শ্রম বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ মুজিবুল হকের সঙ্গে সাক্ষাত করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এ সময়ে শ্রম ইউনিয়ন নিবন্ধনে জটিলতায় যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে তা তিনি অস্বীকার করেন।

 

তিনি বলেন, যারা শ্রম ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন তাদের বেশির ভাগেরই ইউনিয়ন বিষয়ে কোন ধারণা নেই।

 

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের শ্রম আইন ও এ সংক্রান্ত যেসব প্রক্রিয়া তা একটি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা ও তা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধা স্বরূপ। শ্রম আইনে একটি কারখানায় শতকরা কমপক্ষে ৩০ ভাগ শ্রমিকের সম্পতি প্রয়োজন হয়। এটা যৌক্তিক নয়। তাই সরকার একটি ইউনিয়ন নিবন্ধব বাতিলের যে ক্ষমতা তা সরকারই সংজ্ঞায়িত করেছে। ইউনিয়ন করেন যারা তাদের ওপর ও তাদের পরিবারকে হুমকি দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এমনকি হামলা করে। এক্ষেত্রে তারা পায় দায়মুক্তি। শারীরিক লাঞ্ছনা, ভীতি প্রদর্শন, হুমকি দেয়া, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের চাকরিচ্যুতি, কারখানা কর্তৃপক্ষের মিথ্যা ফৌজদারি মামলার ঘটনার প্রমাণ রয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে।

 

এছাড়া হামলা, হুমকি, ইউনিয়ন করা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার অভিযোগে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকার শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২০১৬ সালের মধ্যে রিভাইজ বা পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তাদের সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা উচিত ইউরোপিয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার। কারণ, তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মূল আমদানিকারক।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 37 - Today Page Visits: 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*