Home » জাতীয় » রাজনৈতিক বন্দিতে উপচে পড়ছে বাংলাদেশের কারাগার

রাজনৈতিক বন্দিতে উপচে পড়ছে বাংলাদেশের কারাগার

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে ঠাসা রাজনৈতিক বন্দি রয়েছে এবং এজন্যে বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান আল জাজিরায় একটি নিবন্ধে এ ধরনের ঘটনায় বিচার ব্যবস্থার অসারতা, রাজনৈতিক চরমপন্থা, রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা, ভিন্নমত দমনকে দায়ী করেছেন। তিনি এর তীব্র সমালোচনা করেছেন তার নিবন্ধে।

আল জাজিরায় প্রকাশিত এই নিবন্ধে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রæপ জানায়, বাংলাদেশের ঢাকায় অপরাধীর বিচার রাজনীতিকরণ হয়ে পড়ায় তা অসার হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিরোধীপক্ষকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। আইনের শাসন নষ্ট করা হচ্ছে। যা আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল সংস্থা দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কারণ সরকার পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে এই কাজ করছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাজনৈতিক দ্ব›দ্ব, চরমপন্থা এবং আসামির বিচার এক হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগের নীতিতে দেখা যায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধ দমনের বদলে তাদের সব প্রচেষ্টা শুধুমাত্র বিরোধীদলকে লক্ষ্য করে ঘনীভূত করছে।

রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ফলে বিরোধীদলীয় পক্ষের বহু নেতা এবং কর্মীর ভারে নূব্জ্য হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের কারাগার। বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এটি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

ব্রাসেলস এর একটি সংস্থার মতে, এর ফলে বিচার ব্যবস্থা ধীর, অসার, রাজনৈতিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষারপ করতে গিয়ে সাধারণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর ফলে আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহারে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সুযোগ পাচ্ছে, বিদেশী এবং বøগারদের হত্যা করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপরে হামলা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইকবাল সোবহান চৌধূরি এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি পক্ষপাতদুষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর মন্তব্যগুলো কোন মৌলিক ভিত্তি নেই, এই মন্তব্যগুলো অমূলক। এর কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি আরো বলেন, তারা বলেছে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধীদের চেয়ে বিরোধীদলের দিকে নজর দিচ্ছে অথচ এর কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং তারা নির্দিষ্ট তথ্য, জরিপ ছাড়া অমূলক মন্তব্য করে যাচ্ছে। সম্প্রতি, বৃহৎ বিরোধী দল বিএনপি সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় তাদের কাউন্সিল সম্পন্ন করেছে।

তবে আইজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের দুই শাসক দলের দ্ব›েদ্ব দেশের জনগণ হুমকির মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির এই রাজনৈতিক দ্ব›দ্ব রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ।

জানুয়ারি ২০১৪ সালে, আওয়ামী লীগ ৫ বছর সম্পন্ন করে এবং বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করায় শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ২৪ হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে ৫০০টি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দুই জন যুগ্ন সচিব এবং বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সদস্য আছেন। এটি নতুন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি অপপ্রয়াস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সরকারের সমালোচকদের গুম, বিচারবহিভূর্ত হত্যাকাÐ, নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়েছে। সরকার ভিন্নমতকে দমন করার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আইজিসি সরকারকে বৈধ রাজনৈতিক ভিন্নমত এবং বিরোধী দলকে গ্রহণ করার আহবান জানায়।

আল জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন লিহান লিমা

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 57 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*