Home » অন্যান্য » পর্যটন » সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের বিড়ম্বনা

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের বিড়ম্বনা

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ আটকা পড়েছে ডুবোচরে। ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌপথের একাধিক জায়গায় ডুবোচর জেগে ওঠায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে। এ ছাড়া টেকনাফের নাফ নদীতে জেলেদের পাতা বিহিঙ্গি জালের কারণেও জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন পর্যটকেরা।

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা বলেন, এ নৌপথে চার শতাধিক নিষিদ্ধ বিহিঙ্গি জাল (ফাঁদ জাল) ও একাধিক ডুবোচর জাহাজ চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এ ছাড়া নৌ–চ্যানেলে পর্যাপ্ত বয়া কিংবা লাল নিশানা না থাকায় মাঝপথে জাহাজ আটকে পড়ছে ডুবো চরে। ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন পর্যটকেরাও। অনেক পর্যটক সেন্ট মার্টিন যাওয়ার পথে চার-পাঁচ ঘণ্টা ডুবো চরে আটকে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

যাত্রীবাহী জাহাজ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে সাতটি জাহাজ নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ জুন-জুলাই ছাড়া বাকি ১০ মাসই চালু থাকে। তাঁরা আরও জানান, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে ১৪ কিলোমিটার পড়েছে নাফ নদী অংশে। এখানে জেলেরা ইচ্ছামতো নিষিদ্ধ বিহিঙ্গি জাল পাতছেন। এ ছাড়া ২০ কিলোমিটার সাগরের বিভিন্ন অংশে রয়েছে একাধিক ডুবোচর। ডুবোচর চিহ্নিত করার জন্য বয়া কিংবা লাল নিশানাও নেই।

এ বিষয়ে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলকারী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ ডুবোচরে আটকা পড়েছে।

জাহাজ মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ মার্চ বিকেল চারটার দিকে সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফ ফেরার পথে মিয়ানমার উপকূলের নাইক্ষ্যংদিয়া ও নাফ নদীর মোহনায় বদর মোকাম নামক এলাকার বে ক্রুজ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন জাহাজ দুটি প্রায় দেড় হাজার পর্যটক নিয়ে ডুবোচরে আটকা পড়ে। পেড় সন্ধ্যা সাতটার দিকে জোয়ার এলে জাহাজ দুটি আবার যাত্রা শুরু করে রাত সাড়ে আটটার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে পৌঁছায়। ১৮ মার্চ সেন্ট মার্টিন থেকে ফেরার পথে একই এলাকায় এলসিটি কুতুবদিয়া জাহাজটি আবারও ডুবোচরে আটক পড়ে। তখন জাহাজটিতে প্রায় ১২ শ পর্যটক ছিলেন। ২৬ মার্চ সেন্ট মার্টিন থেকে ফেরার পথে একই এলাকায় কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন জাহাজও ডুবোচরে আটক পড়ে। তখন জাহাজটিতে আট শতাধিক পর্যটক ছিলেন।

ঢাকার মগবাজার থেকে বেড়াতে আসা রিয়াজ হাসান ও মহাখালীর বিল্লাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এভাবে হঠাৎ করে সাগরের মাঝে ডুবোচরে আটকা পড়লে অনেক সাহসী মানুষও ভয় পায়। ওই সময় অনেক নারী ও শিশু আতঙ্কের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা সময় পার করেছে। বেড়াতে এসে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হব, সেটা কোনো দিন ভাবিনি।’

এ নৌপথে চলাচল করা কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন জাহাজের চালক (মাস্টার) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, টেকনাফের দমদমিয়া থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে প্রতিদিন সকালে সাতটি জাহাজ ছেড়ে যায়। সেগুেলা বিকেলে সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সাগর ও নাফ নদীর মোহনা এলাকা পর্যন্ত একাধিক ডুবোচরের কারণে ৫৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। ডুবোচরের চ্যানেলটি কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ফুট খনন করা দরকার। তা না হলে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, এ নৌপথে একাধিক ডুবোচর জেগে উঠেছে। এ চ্যানেল দিয়ে চলাচল করা চালকেরা সচেতন থাকলে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। তিনি আরও বলেন, জাহাজ ডুবোচরে আটকা পড়ার পর মিয়ানমার সীমান্তের বর্ডার গার্ড পুলিশকে (বিজিপি) অবহিত করা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবির দুটি বিশেষ দল টহলে থাকতে হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে ভেসে ওঠার পর জাহাজগুলোকে নিরাপদে টেকনাফের ঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে যোগাযোগ করে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌ রুটে ডুবোচরের বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁরা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলকারী জাহাজে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এবং ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ডুবোচরের বিষয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন কমিটির সভায় উত্থাপন করা হবে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 75 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*