Home » আন্তজাতিক » পাকিস্তানের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ ভারতের

পাকিস্তানের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত-শাসিত কাশ্মীরে গত প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সহিংসতার পটভূমিতে ভারতকে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তান, দিল্লি তা কার্যত নাকচ করে দিয়েছে।

দিল্লিতে সরকারি সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রস্তাব ছিল ‘আলোচনা হোক শুধু কাশ্মীর নিয়ে’। কিন্তু পাল্টা জবাবে ভারত বলেছে এই মুহূর্তে মূল আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত শুধুই ‘সন্ত্রাসবাদ’।

দুইপক্ষের এধরনের অবস্থানের কারণে অচিরেই দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ওদিকে কাশ্মীরের পরিস্থিতিও ক্রমেই আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

গত ৮ই জুলাই ভারত-শাসিত কাশ্মীরে জঙ্গিনেতা বুরহান ওয়ানি এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার পর থেকেই কাশ্মীর উপত্যকা অশান্ত হয়ে ওঠে।

এরই মধ্যে সোমবার ভারতের স্বাধীনতা দিবসে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তার ভারতের পররাষ্ট্র সচিবকে একটি চিঠি পাঠান এবং কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে আসার আমন্ত্রণ জানান।

এতে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যা নিরসনের জন্য ভারত-পাকিস্তান দুই দেশই আন্তর্জাতিকভাবে দায়বদ্ধ। সে কারণেই এই আলোচনার প্রস্তাব।

সাবেক পাকিস্তানি কূটনীতিক আজিজ আহমেদ খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে দেখেই ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

মি খানের কথায়, ‘‘সম্প্রতি কাশ্মীরে যে শোচনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে – শত শত লোক হতাহত হয়েছে, বহু মানুষ গুলির আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন,। তাতে পাকিস্তান মনে করছে যে অমীমাংসিত কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে অচিরেই দুদেশের আলোচনায় বসার প্রয়োজন, নইলে সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাবে”।

পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত গৌতম বাম্বাওয়ালে সেই চিঠির জবাব আজ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন।

ভারতের সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডুর কথায়, ‘‘কাশ্মীরে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতেই হবে। তারা আগে তাদের দেশের মাটিকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ করুক, সেটাই সবার আগে দরকার’’।

কিন্তু দু’পক্ষে কিছুটা আপস করে একইসঙ্গে কাশ্মীর ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা বলতে অসুবিধা কোথায়?
দিল্লিতে বহুদিন পাকিস্তানি হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করা আজিজ আহমেদ খান বলছেন, ‘‘আমার মতে এর সেরা সমাধান হল দুদেশের মধ্যে সর্বাত্মক আলোচনার প্রক্রিয়া ফের শুরু করা যাতে শুধু কাশ্মীর নয়, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সিয়াচেন-সির ক্রিক সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়েই কথা হতে পারে।’’

কিন্তু এই মুহূর্তে সেই কম্পোজিট ডায়ালগ শুরু হওয়ার কোনও লক্ষণ চোখে পড়ছে না – বরং কাশ্মীরে মৃত্যুর সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই আরও তলানির দিকে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 68 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*