Home » বরিশাল » মেহেন্দিগঞ্জে শিক্ষক নেতা মোশারেফ’র বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা অাত্তস্বাদ সহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগ

মেহেন্দিগঞ্জে শিক্ষক নেতা মোশারেফ’র বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা অাত্তস্বাদ সহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগ

মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট বন্দরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত পাতারহাট মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোশারেফ হোসেন’র বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আতœসাদ সহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগ তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তকালীন সময়ে মুখ খুলেছেন এস.এম.সি-র সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম আর দুর্ণীতি বাসা বেঁধেছে এ প্রতিষ্ঠানে। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগে জানা যায় শিক্ষক নেতা মোশারেফ কাজিরহাট থানার কাদিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে ব্যাপক দেন দরবার করে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন ২০১০ সালে। জাতীয় শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ (১৯৯৫খ্রিঃ) এ  যোগদানের পর থেকেই একের পর এক অনিয়ম, দুর্ণীতি, খামখেয়ালীপনা, স্বেচ্ছাচারিতা আর লোপাট করে এখন  প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক তিনি। উল্লেখিত খাতগুলো থেকে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা আতœসাদ করেছেন।প্রতি বছর শিশু শ্রেনীর উপকরণ  বাবদ ৫ হাজার টাকা হারে ৩ বছরে ১৫০০০টাকা আতœসাদ, প্রতি বছর ইন্টানেট’র খরচ বাবদ ৪৮০০টাকা হারে ৪ বছরে ১৯২০০ টাকা, প্রতিবছর কন্টিজেন্সি ভাউচার বাবদ ৮০০০টাকা হারে ৬বছরে ৪৮০০০টাকা, প্রতি বছর পরীক্ষার খাতা বিক্রয় বাবদ ২০,০০০টাকা হারে ৬বছরে ১২০,০০০টাকা, প্রতি বছর সরকারী পুরাতন বই অবৈধভাবে বিক্রি বাবদ ২০,০০০টাকা হারে ৬বছরে ১২০,০০০টাকা, প্রতিবছর ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির ফি বাবদ জন প্রতি ১২০টাকা হারে প্রতিবছর ২৫০জন (প্রায়) কাছ থেকে ৬বছরে ১৮০,০০০টাকা, প্রতি বছর সমাপনী পরীক্ষার প্রশাংসাপত্র বাবদ ১৫০ টাকা হারে ১৫০দ্ধ ৬ জনের কাছ থেকে ৬ বছরে ১৩৫,০০০টাকা, প্রতি বছর সমাপনী পরীক্ষার সরকারী সার্টিফিকেট বাবদ ১০০ টাকা হারে ১৫০দ্ধ ৬  জনের কাছ থেকে ৬ বছরে ৯০,০০০টাকা, প্রতি বছর প্রতি পরীক্ষার চারু ও কারুকলা বাবদ ১০টাকা হারে গড়ে ১০০০ জনের কাছ থেকে ৬ বছরে ১৮০,০০০টাকা, নতুন বই বিতরন কালে  শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছবি তোলার নাম করে  ৫০টাকা হারে ১০০০ জনের থেকে  ৫০,০০০/- টাকা, বিদ্যালয়ের নিজস্ব ২টি দোকান ঘর ভাড়া বাবদ ৪০০০টাকা হারে ৬বছরে ২৪ হাজার টাকা, প্রতি বছর বিস্কুটের কার্টুন বিক্রি বাবদ ৯৬০০ টাকা হারে ৩ বছরে ২৮৮০০টাকা, সরকারী ও অন্যায়ভাবে  আতœসাদকৃত টাকার পরিমান ১০,১০০০০টাকা, সহকারী শিক্ষকদের বদলীর হুমকি দিয়ে টাকা আতœসাদ, কোচিং বানিজ্যর মাধ্যমে  ৫বছরে আরো লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন, সরকারী প্রশ্ন বাতিল করে নিজ বিদ্যালয়ের নামে সাময়িক পরিক্ষার প্রশ্ন তৈরি করে তা ফাঁস করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ বানিজ্যের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। তার বাসায় গেলে সকাল-বিকাল দেখা মিলবে আর এক প্রাইভেট স্কুল। তার বাসার দরজায় দেখা যাবে শত জোড়া শিশুদের জুতা।ভাল শাখায় রাখতে এবং প্রশ্ন পেতে-ই অভিভাবকদের এই পদ্ধতি নিতে হয় বলে জানান অভিভাবকরা।  গাইড বই কোম্পানীর থেকে উৎকোচ গ্রহন করে ওই কোম্পানীর গাইড ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়। সমাপনী পরীক্ষা শেষে এ প্লাস ও বৃত্তি কিনে দেওয়ার জন্য অভিবাবকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া। দুর্ণীতি অনিয়ম আর ঘুষ বানিজ্যই সিমাবদ্ধ নয়, নারী কেলেংকারীর অভিযোগও রয়েছে সমানতালে। যা স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত হয়েছিল। তার গ্রাসে ঐতিহ্যবাহী এই জাতীয় শ্রেষ্ঠ  বিদ্যালয়ের সুনাম হারিয়ে যেতে বসেছে। জানা গেছে তার লাগামহীন অনিয়ম এবং দুর্ণীতির বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রানালয় সহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বরিশাল সদরের বন্দর থানা’র সভাপতি সাংবাদিক এইচ.এম মনির হোসেন।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে গত ১৬/০৮/২০১৬ ইং তারিখ অভিযোগের তদন্ত করেছেন বরিশাল সদরের উপজেলা শিক্ষা অফিসার এস,এম. আমিরুল ইসলাম ও  সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার, বাবুগঞ্জ এর বিপ্লব কুমার মজুমদার। অভিভাবকদের বক্তব্য অনুযায়ী এবারের তদন্তে মোশারেফের সকল দূর্ণীতি ও অপকর্ম অনেকটাই বেড়িয়ে এসেছে। জনশ্রুতি রয়েছে দুর্ণীতিকে পুঁজি করে চাকুরি করে যাচ্ছেন শিক্ষক নেতা মোশারেফ হোসেন। অভিভাবকদের দাবী এসকল  ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ সঠিক ব্যবস্থা  গ্রহণ করবে। সুশীল সমাজের প্রশ্ন আইনের কাছে কি তার জবাব দেওয়া লাগবে না ?

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 72 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*