Home » অপরাধ » জয়পুরহাটে গৃহবধূকে ‘যৌন নির্যাতন প্রভাবশালীর ছেলের’

জয়পুরহাটে গৃহবধূকে ‘যৌন নির্যাতন প্রভাবশালীর ছেলের’

ছিলিমপুর গ্রামে প্রায় চার মাস আগে এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

এ কারণে ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সদ্য বিবাহিতা ওই গৃহবধূকে একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী মন্ডলের ছেলে জোবায়ের মন্ডল প্রতিনিয়ত অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

গত ৩০ মে বেলা ১১টার দিকে গৃহবধূর স্বামী কাজে গেলে জোবায়ের তাদের ঘরে ঢুকে তাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ওই সময় ওই নারীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে জোবায়ের পালিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ওই ঘটনার সাক্ষী প্রতিবেশী হেলানা খাতুন, হাসনা বানু, বাবলু মিয়াসহ গ্রামবাসীরা জানান, মেয়েটির চিৎকারে তারা এগিয়ে এলে কিছু বুঝে ওঠার আগে জোবায়ের দৌড়ে পালিয়ে যান।

পরে তারা মেয়েটিকে ‘প্রায় বিবস্ত্র ও ক্লান্ত’ অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তারা তার মাথায় পানি ঢেলে তাকে সুস্থ করার পর সব ঘটনা শোনেন বলে জানান।

এ ঘটনায় গত ১৪ জুন ওই নারী বাদী হয়ে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

এ মামলার পর জোবায়ের ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বাদীর পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাদীর স্বামী।

বাদীর স্বামী জানান, এই মামলার তদন্ত ভার পেয়েছেন কালাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গওছল আজম। গত ২২ জুন তিনি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

জোবায়েরের পরিবারের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দায়সারাভাবে এই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গ্রামের মোন্তাজুর রহমান, শান্তনা বেগম, সাইদুল ইসলামসহ অনেক বাসিন্দা।

তারা এই ঘটনার পুনঃতদন্দ দাবি করেন।

গৃহবধূর নানা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আবেগজড়িত কন্ঠে বলেন, একজন গরীব মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানও যৌন নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

ঘটনার তদন্তকারী কালাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গওছল আজমকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 55 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*