Home » রাজনীতি » ধনকুবের ছিলেন মীর কাশেম আলী!

ধনকুবের ছিলেন মীর কাশেম আলী!

নিউজ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর সব ধন-সম্পদের চাবি ছিল দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর হাতে, যাকে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের মানুষ চিনত মিন্টু নামে। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে ডেথ স্কোয়াড নামে পরিচিত আলবদর বাহিনীর এই কমান্ডার বা বাঙালি খানই জামায়াতের সব অর্থের প্রধান জোগানদাতা। জঙ্গি-সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও জামায়াতি কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন নামে নানা দেশ থেকে পাওয়া সব অর্থ ও মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশেরও নিয়ন্ত্রক ছিলেন মীর কাসেম আলী।

১৯৮০ সালে তিনি রাবেতা আল আলম আল ইসলামী নামে একটি বিদেশি সংস্থার বাংলাদেশি পরিচালক হন। সন্ত্রাসী অর্থায়নে অভিযুক্ত এ সংস্থায় থাকা অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য হন তিনি। আর ১৯৮৫ সালে হন জামায়াতের মজলিশে শূরার সদস্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করলেও বিজয়ের পর মুক্ত দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ধনকুবের বনে যান মীর কাশেম। এরপর জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে গড়ে ওঠা ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালক এবং স্থানীয় স্পন্সর, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য (প্রশাসন), ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বোর্ড অব ডিরেক্টরের সদস্য, কেয়ারি হাউজিং ও ইডেন শিপিং লাইনসের চেয়ারম্যান হন তিনি। এ ছাড়া তিনি ফুয়াদ আল খতিব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্টের (এআইটি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান।

ইবনে সিনা ট্রাস্টের রয়েছে আটটি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সেন্টার, একটি মেডিকেল কলেজ, একটি নার্সিং কলেজ ও একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি। তিনি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক স্কুল ও কলেজের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। মীর কাসেম আলীর ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক গ্রুপের নাম কেয়ারি। এর প্রধান কার্যালয় রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে কেয়ারি প্লাজায়। এর আওতায় রয়েছে কেয়ারি ট্যুরিজম, কেয়ারি পোলট্রি ও কেয়ারি রিয়েল এস্টেট। কেয়ারি ট্যুরস ও সার্ভিসেস লিমিটেডের আওতায় বিলাসবহুল প্রমোদতরী কেয়ারি ক্রুজ ও ডাইন ছাড়াও রয়েছে কেয়ারি সিন্দবাদ, কেয়ারি কর্ণফুলী ও কেয়ারি তরঙ্গ নামের আরও তিনটি জাহাজ।

এমন প্রেক্ষাপটে জামায়াতি অর্থের এই নিয়ন্ত্রক যুদ্ধাপরাধ মামলা বাধাগ্রস্ত করতে কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচও করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এমনকি হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্টও নিয়োগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো কিছুতেই আটকাতে পারেননি নিজের ফাঁসি। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সুতালরি গ্রামের পিডব্লিউডির সাবেক কর্মচারী তৈয়ব আলীর চার ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় মীর কাসেম আলী। ডাক নাম পিয়ারু, যাকে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের সবাই চিনতেন মিন্টু নামে। জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক আর চট্টগ্রাম শাখার সভাপতিও ছিলেন তিনি।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 35 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*