Home » রাজনীতি » আগে শিক্ষা, পরে রাজনীতি: শেখ হাসিনা

আগে শিক্ষা, পরে রাজনীতি: শেখ হাসিনা

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে, ছাত্ররাজনীতি আমরা করব। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং সবার আগের কাজ।’ ছাত্রলীগ দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ আয়োজিত পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের পুনর্মিলনীতে এসে পৌঁছান। বক্তব্যের শুরুতে ছাত্রলীগের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা প্রত্যেক নেতা-কর্মীর পড়া উচিত এবং পড়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ধন-সম্পদ চিরদিন থাকে না। কিন্তু একটা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করলে, দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারলে সেই সম্পদটা থাকে।’
ছাত্রদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছাত্রলীগের যে নীতি, সেই নীতিটা কী? আমি আমাদের বললাম। আওয়ামী লীগ করি, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, তারপরেও ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম, সেটা তো ভুলতে পারি না। সেখান থেকেই তো রাজনীতিতে হাতেখড়ি। সেখান থেকেই শিখেছি শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি, ছাত্রলীগের মূলনীতি।’
সম্পদ অর্জনের বিষয়ে নিজের পরিবারের উদাহরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এবং রেহানা, আমাদের ছেলেমেয়েদের একটা কথা সব সময় শেখাই; সেটা হলো আমরা একটাই সম্পদ তোমাদের দিয়ে যেতে পারি, সেটা হলো শিক্ষা। শিক্ষা গ্রহণ করলে কোনো হাইজ্যাকাররা হাইজ্যাক করতে পারবে না। কেউ চুরি করতে পারবে না, কেড়ে নিতে পারবে না। শিক্ষাই হচ্ছে চলার পথের পাথেয়। শিক্ষা গ্রহণ করলে শুধু নিজের জীবন নয়, দেশ ও জাতিকে কিছু দেওয়া যেতে পারে।’
জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এগুলোর বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকাসক্তি শুধু মানুষ নয়, একটা পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
জঙ্গিবাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই, মানুষ খুন করার কথা বলেনি। আত্মঘাতী হলে দোজখে যেতে হয়, কেউ বেহেশতে যেতে পারে না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব অবাক লাগে, যখন দেখি ইংলিশ মিডিয়ামের ছেলেমেয়েও এই জঙ্গিবাদের পথে চলে যাচ্ছে। একটা ভালো অর্থশালী পরিবারের সন্তান হয়ে, উচ্চশিক্ষা নিয়ে কীভাবে জঙ্গিবাদের পথে যেতে পারে? কিসের আশায়? জঙ্গিবাদের পথে তারা বেহেশতে যাবে? এ পর্যন্ত যারা গেছে, তারা কি বেহেশতে গিয়ে খবর পাঠিয়েছে যে তারা বেহেশতে গেছে। সেই খবর তো তারা দিতে পারেনি। কেউ বলতে পারবে? কেউ তো বলতে পারবে না। তাহলে তারা এই পথে কেন যাবে?’
শিক্ষার্থীদের যারা বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদে উসকানি দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে অনুরোধ করব, মাদক ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। এ পথে যারা যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
অশিক্ষিত ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের বিদ্যা অর্জনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়লে দেশের কী দুরবস্থা হতে পারে, তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি, ’৭৫ সালের পর থেকে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে লাখো শহীদের রক্তরঞ্জিত পতাকা দিয়েছে, রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে; যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, সাজা হয়েছে, সাজা কার্যকর হয়েছে। যারা এদের মদদ দিয়েছে, তাদের বিচারও বাংলার মাটিতে একদিন হতেই হবে।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশকে বিশ্বের মধ্যে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে। কারণ, জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই আমরা রাজনীতি করি। কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ে হাত পেতে চলা নয়, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব। যতটুকু সম্পদ আমাদের আছে, ততটুকু দেশ গড়তে কাজে লাগাব। দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সংগঠনটির আজীবন সদস্য শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকের নিজ নিজ দেশ, গ্রাম-এলাকা আছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীকে দেখতে হবে অন্তত নিজের এলাকায় কোনো নিরক্ষর মানুষ আছে কি না। তাদের খোঁজ নিতে হবে এবং নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দিতে হবে। বাংলাদেশকে দ্রুত নিরক্ষরমুক্ত করতে সবাইকে কাজ করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে পারলে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব না কেন? ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে পুনর্মিলনীতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকেরা। বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের প্রমুখ। পুনর্মিলনী পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 39 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*