Home » রাজনীতি » ‘আমরা হতাশ না, ক্ষুব্ধ’

‘আমরা হতাশ না, ক্ষুব্ধ’

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির নাম প্রকাশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে তার সদস্যরা সকলেই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত। এতে আমরা হতাশ না, আমরা ক্ষুব্ধ।

আজ বুধবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডি আর ইউ) মিলনায়তনে ২৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের হত্যা দিবস (বাকশাল) পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র ও শহীদ জিয়া: আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে খালেদা জিয়ার চার দফা দাবি আমলে নিয়ে রাষ্ট্রপতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সংলাপে ডাকার পর জাতি একটু আশার আলো দেখেছিলো। কিন্তু আজকে প্রকাশিত সার্চ কমিটিতে যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তাতে জনগনের আশাভঙ্গ হয়েছে। সার্চ কমিটিতে যে ছয় জনের নাম দেওয়া হয়েছে তারা সকলেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ পেয়েছেন। বর্তমান সার্চ কমিটি আ্ওয়ামী লীগের পছন্দ অনুযায়ী করা হয়েছে।

এসময় তিনি উল্লেখ করেন, সার্চ কমিটিতে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিরিন আক্তার গণমাধ্যমের কাছে তার অনুভুতি ব্যক্ত করেছেন, ‘বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশনেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছেন তা আমি যথাযথভাবে পালন করবো।’ ফখরুল বলেন, এই যখন সার্চ কমিটির অবস্থা তখন জনগন কি আশা করতে পারে? এই কমিটি কি ধরনের নির্বাচন কমিশন গঠন করবে তা আমাদের বোঝা হয়ে গেছে।

১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের বাকশাল গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে দলটির নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছিলো সে দলটিই ৭৫ সালে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছিলো। আওয়ামী লীগ কখনো ৭৫ এর আগের কথা বলতে চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই তার অতিত ইতিহাস ভুলে যায়। তারা শুধু ৭৫ এর পরের কথা বলেন। তারা একবারও বলেন না তারা কেন বাকশাল গঠন করেছিলো। এটাই তাদের চরিত্র।

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে ৭২ পরবর্তী সময়ের মত শাসন ব্যবস্থা চলছে। সরকার হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে, ৫০০ এরও বেশি নেতাকর্মী গুম করা হয়েছে। মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি খালেদা জিয়াকেও হয়রানি করা হচ্ছে। দেশের মানুষের এখন ভোটাধিকার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে সরকার দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরন করে তখন তাকে ফ্যাসিবাদি সরকার বলে, একনায়কতন্ত্র বলে। যা এখন চলছে।

সরকার আবারও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৭৫ সালের বাকশাল গঠন আর আজকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা আকড়ে রাখার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এই অপশক্তিকে পতন করা জনগণের পবিত্র দায়িত্ব।

বাংলাদেশের লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মো: মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. আহমেদ আজম খানসহ বিএনপি ও লেবার পার্টির নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 43 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*