Home » বরিশাল » একা হয়ে পড়েছেন বরিশাল সদর অাসনের এমপি জেবুন্নেছা! আগামী সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের টিকিট পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা

একা হয়ে পড়েছেন বরিশাল সদর অাসনের এমপি জেবুন্নেছা! আগামী সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের টিকিট পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট॥  বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একা হয়ে পড়েছেন প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরন পত্নী এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ। উন্নয়নের মডেল হিসেবে খ্যাত হিরনের সাজানো রাজনৈতিক বাগানের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধরে রাখতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি তার কাছ থেকে সরে যাওয়া নেতাদের। এখন মুষ্টিমেয় যারা আছেন তারাও প্রতিপক্ষের হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। আর এ কারণে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০১৪ সালে তৎকালীন বরিশাল সদর আসনের এমপি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুতে শূন্য হয় আসনটি। দল থেকে হিরন পত্নী জেবুন্নেছা আফরোজকে মনোনয়ন দেয়া হয়। বিএনএফ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেবুন্নেছা এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর জেবুন্নেছা তার স্বামী হিরনের অনুসারী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। আর এ সুযোগ কাজে লাগান কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। যুবলীগ নেতা থেকে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা হতে মাঠে নামেন সাদেক। এ জন্য তার পিতা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির হাতে গড়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে তার ব্যানারে আনতে কাজ করেন। এ জন্য দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে সরকার ঘোষিত সকল কর্মসূচি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করতে থাকেন।
সাদেকের কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে পড়েন এমপি জেবুন্নেছা। তিনি দলীয় কর্মসূচিতে থাকতেন না। আর জেবুন্নেছার অনুপস্থিতি কাজে লাগান সাদেক। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা থেকে শুরু করে কর্মীদের কাছে টানেন। তাদের সব ধরনের সমস্যায় ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এ জন্য হিরনের অনুসারীদের তিনি টার্গেট করেন। তার টার্গেট অনুুযায়ী হিরনের গড়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেশিরভাগ সাদিকের নেতৃত্বে চলে আসেন।
হিরন মেয়র থাকাকালীন যাদের কোটি কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দিয়েছেন তারাও সাদিকের হাতে ফুল দিয়ে তার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। হিরনের মৃত্যুর পর সাদিকের একক নেতৃত্বে চলতে থাকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ। এ কারণে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাদিকের নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ বাসভবনে থাকত নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়। ওই সময় এমপি জেবুন্নেছার বাসা ছিল নেতাকর্মী শূন্য। এমনকি মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীণ সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আফজালুল করিমও নেতাকর্মী ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বাসায়ও যেত না কোনো নেতাকর্মী। তিনি শুধু দলীয় কর্মসূচিতে স্বল্প সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে এসে যেনতেনভাবে পালন করে তার আইন পেশায় মনোযোগ দিতেন।
এভাবে ধীরে ধীরে এমপি জেবুন্নেছার কাছ থেকে নেতাকর্মীরা সরে যেতে থাকেন। যারা ছিলেন তাদের আশা ছিল মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে জেবুন্নেছা সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদকের পদ পেলে এ অবস্থার পরিবর্তন আসবেন। কিন্তু সে পথও শেষ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের পূর্বে ঘোষণা করা হয় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ওই কমিটিতে এমপি জেবুন্নেছার স্থান হয় সদস্য পদে। আর আফজালুল করিমকে দেয়া হয় সহ-সভাপতির পদ। সাদিক আব্দুল্লাহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পদ পেয়ে আরো কঠোর হাতে দলের হাল ধরেন সাদিক। যারা জেবুন্নেছার পদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারাও ফুল দিয়ে সাদিকের নেতৃত্বে চলে যান। এখন শুধু হাতে গোনা কয়েকজন এমপি জেবুন্নেছার সঙ্গে রয়েছেন। এদের মধ্যে মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিমউদ্দিন ও তার অনুসারীরা অন্যতম।
এদিকে জসিম সাদিকের নেতৃত্বে না যাওয়ায় মহানগর ছাত্রলীগ নেতা রেজা হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এমনকি জসিমকে গ্রেফতারের দাবিতে নগরী অচল করে দেয় সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এর ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যাতে জসিম নগরীতে কোনো অনুষ্ঠান না করতে পারে তার অনুসারীদের ওপর চালানো হয় হামলা। এতে ৫ জন আহত হলেও হামলাকারীরা রয়েছে বহাল তবিয়তে। জসিমের অভিযোগ সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারীদের হামলার কারণে তারা নগরীতে কোন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। আর এসব ব্যাপারে এমপি জেবুন্নেছা কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় তারাও পড়েছেন মহাবিপাকে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে হিরনের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা একাধিক নেতা জানান, আমরা হিরন ভাইয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। তার মৃত্যুর পর এমপি জেবুন্নেছার সঙ্গে রাজনীতি করলেও বিপদে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। এ কারণে সাদিকের সঙ্গে রাজনীতিতে আসতে বাধ্য হয়েছি। তারা এ জন্য জেবুন্নেছাকে দায়ী করেন।
এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জানান, শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর মহানগর আওয়ামী লীগের হাল ধরেন তিনি। এ জন্য নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদক থেকে শুরু করে প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান ধরে রাখি। যার পুরস্কার হিসেবে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পদ দিয়েছেন। জসিমের অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মহানগর ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হামলা হয়েছে।
জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি বলেন, তিনি একা হয়ে যাননি। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির সঙ্গে রাজনীতিতে রয়েছেন। বরিশালে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি গড়তে তারা সকলে মিলে এক সঙ্গে কাজ করছেন। কিন্তু বিগত দিন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপেট বলছে ভিন্ন কথা।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 112 - Today Page Visits: 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*