Home » জাতীয় » বিশ্ব ইজতেমা: ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট মুসল্লিরা

বিশ্ব ইজতেমা: ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট মুসল্লিরা

আজ শুক্রবার বাদ ফজর বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে অংশ নিয়েছে বিদেশি মেহমান ও ঢাকাসহ দেশের ১৭টি জেলার লাখ লাখ মুসল্লি। জুমার দিন হওয়ায় মুসল্লির পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দ্বিগুন। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দেশের জেলাগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করে ইজতেমার আয়োজন করায় আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের।

মুসল্লিরা জানান, আগে জুমা ও আখেরি মোনাজাতের দিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হত মুসল্লিদের। ইজতেমার ময়দানে প্রবেশ ও বের হতে লাগতো ঘন্টার পর ঘন্টা সময়। এখন মুসল্লির পরিমান কম থাকায় এবং পর্যাপ্ত প্রবেশ পথ থাকায় সহজেই ইজতেমার ময়দানে প্রবেশ ও বের হতে পারেন তারা।

এছাড়া পর্যাপ্ত টয়লেট, প্রসাবখানা এবং ওযু-গোসলের ব্যবস্থা থাকায় আগের মত দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে না মুসল্লিদের। সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ইজতেমা ময়দানের পরিবেশও রয়েছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। এছাড়া রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এ বছর ইজতেমায় মুসল্লিদের জন্য করা হয়েছে ১৮টি প্রবেশ পথ, তুরাগ নদীতে আটটি অস্থায়ী সেতু ও পাঁচটি পার্কিং লট। নিরাপত্তার জন্য প্রতিবারের ন্যায় এবারও থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা, মাঠের সব প্রবেশ পথে ও কৌশলগত স্থানে ইলেক্ট্রনিক তল্লাশি (আর্চওয়ে) ব্যবস্থা, ভিডিও ক্যামেরা স্থাপনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পদক্ষেপ।

নিরাপত্তায় পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের টিমও থাকবে। এছাড়া মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সেবায় রয়েছে দুটি হেলথ সেন্টার। ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ব ইজতেমায় প্রতি বছর ২৫ লাখের বেশি মুসল্লির সমাগম হয়।

আখেরি মোনাজাতের দিন এ সংখ্যা দ্বিগুণ হয়, যা টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরের ১৬০ একরের ইজতেমা ময়দানের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং মুসল্লিদের চাপ ও দুর্ভোগ কমাতে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে একই বছর দু’বার বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

মুসল্লিদের চাপ ও দুর্ভোগ কমাতে তবলীগের শীর্ষ মুরুব্বিদের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত চার ভাগে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে গত বছর দুই ভাগে ৩২টি জেলা বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয়। বাকি ৩২টি জেলার মধ্যে ১৭টি জেলা এ বছর ইজতেমার প্রথম পর্বে অংশ নেয়। এ বছর যেসব জেলা অংশ নেবে তারা আগামি বছর ইজতেমায় অংশ নিতে পারবে না। তবে বিদেশি মেহমানরা প্রতি বছরই ইজতেমায় অংশ নিতে পারবে।

দ্বিতীয়পর্বে অংশ নেওয়া জেলাগুলো ও তাদের খিত্তা নাম্বার হলো, ঢাকা -১ থেকে ৫ ও ৭, মেহেরপুর- ৬, লালমনিরহাট-৮, ব্রাহ্মণবাড়ি-৯, দিনাজপুর-১০, হবিগঞ্জ-১১, মুন্সিগঞ্জ-১২ ও ১৩, কিশোরগঞ্জ-১৪ ও ১৫, কক্সবাজার-১৬, নোয়াখালী-১৭ ও ১৮, বাগেরহাট-১৯, চাঁদপুর-২০, পাবনা-২১ ও ২২, নওগাঁ-২৩, কুষ্টিয়া-২৪, বরগুনা-২৫ এবং বরিশাল-২৬ নাম্বার খিত্তা।
২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব।

এ বছর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয় ১৫ জানুয়ারি। ১৭ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্ব শেষ হয়। প্রথম পর্বে অংশ নেওয়া জেলাগুলো হলো, ঢাকা,টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ,মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, গাজীপুর, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা ও যশোর।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 40 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*