Home » রাজনীতি » বড় কর্মসূচি নেই বিএনপি’র, চমক দেখাচ্ছে আ’লীগ

বড় কর্মসূচি নেই বিএনপি’র, চমক দেখাচ্ছে আ’লীগ

বিগত ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালনে বড় কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলো দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে আবেদন করে বিএনপি। কিন্তু শৃঙ্খলা ও নাশকতার আশঙ্কায় অনুমতি দেয়নি ডিএমপি।

বিপরীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একের পর এক মহাসমাবেশ, সম্মেলন, সমাবেশ ও জনসভার মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে একক কৃতিত্ব দেখাচ্ছে। পাশাপাশি নেতাকর্মী সমাবেশের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে। বলা হচ্ছে- ১০ জানুয়ারি মহাসমাবেশে নেতাকর্মীদের শৃঙ্খল ও উপস্থিতি ছিলো চমক দেখানোর মতোই।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা সেসময় জানান, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বিগত যেকোন সময়ের চেয়ে বেড়েছে। একই সঙ্গে সরকার পরিচালনায় দলটি যে দক্ষতা দেখাচ্ছে সেটা দেশের জনগণ ভালোভাবেই মেনে নিয়েছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগের যেকোন কর্মী সমাবেশ, সম্মেলন ও জনসভায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নজরকাড়া।

তারা বলছেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনভাবেই সংবিধান রক্ষার নির্বাচন ছিলো না। এই নির্বাচন না হলে দেশে পুনরায় সামরিক বা তৃতীয়পক্ষের কোন সরকার আসতো। সেটা দেশের জনগণ মেনে নিতে পারেনি বলেই ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ একেরপর এক জনসভা, মহাসমাবেশ এবং সবশেষ ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে নেতাকর্মীদের উজ্জ্বীবিত করতে চাইছে। কারণ তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তো আওয়ামী লীগের প্রাণ। আর নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে বিজয় অর্জন করা কষ্টকর ও দুরুহ হবে।

আওয়ামী লীগের এমন কর্মসূচি ও একেরপর এক পর কর্মী সমাবেশে বেশ চাপে রয়েছে বিএনপি। তারা চাইলেও পূর্বের কিছু ভুল-ক্রুটির কারণে বার বার হার মানতে হচ্ছে দলটিকে। যেখানে আওয়ামী লীগ চলতি মাসে ৪টি বড় কর্মী সমাবেশ করতে পেরেছে, সেখানে বিএনপি একটি মহাসমাবেশের অনুমতি পায়নি। একারণে ক্ষুব্ধ দলের শীর্ষ নেতারা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের এক নেতা বিডি টোয়েন্টিফোর লাইভ ডটকমকে বলেন, “বিএনপি যাতে কর্মসূচি পালন করতে না পারে, সেজন্য চেয়ারপারসনের মামলার হাজিরার তারিখ ৫ জানুয়ারি রাখা হয়েছিলো। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। এতেই বোঝা যায় বিএনপিকে এই সরকার কতটা ভয় পায়।”

বড় কর্মসূচি করতে না পারার ক্ষোভ দেখিয়েছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি না পেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পুলিশের কাছে বার বার আবেদন করেছি, আমাদেরকে দেওয়া হয়নি কিন্তু সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এরশাদকে। তাই ভবিষ্যতে সমাবেশ করতে বিএনপি পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা করবে না, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কেড়ে নেবে।’

আওয়ামী লীগের এক নেতা বিএনপি’র এমন অভিযোগ নাচক করে দিয়েছেন। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, নিরাপত্তার ইস্যুতে ডিএমপি তাদের অনুমতি দেয়নি, এটা যেমন সত্যি একই সঙ্গে তাদের সমাবেশ করতে দেওয়া মানে তো- খাল কেটে কুমির আনা। বিশৃঙ্খলা, নাশকতা আর সহিংসতার যে চিত্র বিএনপি দেখিয়েছে এরপর কী করে প্রশাসন তাদের অনুমতি দিবে?

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করে দলটি। কিন্তু সহিংসতা ও নাশকতার একাধিক ঘটনার কারণে বিএনপি’র এমন অবরোধের ডাকে সাড়া দেয়নি জনগণ। সেসময় দলটির ভেতরে-বাইরে এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনাও হয়।
এরপর অবশ্য বড় কর্মসূচি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় দলটি। তবে দলের একাধিক নেতা এটা নিশ্চিত করেছেন, চলতি বছরে দলের চেয়ারপার্সন দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করবেন। ইতোমধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীতে আরও কমিটি আসবে।

বিএনপি’র কোন কর্মসূচি বা আন্দোলনের হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাদের দাবি, যারা ঘরে টিভির সামনে বসে কর্মসূচি ঘোষণা দেয়, তাদের কাছ থেকে কোন হুমকি বা আন্দোলন কর্মসূচিতে ভয় পায় না আওয়ামী লীগ।

বিএনপি যদি কোন আন্দোলন বা কর্মসূচিতে যায় তবে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। আর আওয়ামী লীগ যে জনবান্ধব দল তা বিগত ৮ বছরে একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। এখন দলীয় শৃঙ্খলা ও নতুন কর্মীদের দলে টানতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তারই চিত্র ১০ জানুয়ারির মহাসমাবেশে দেশব্যাপি দেখেছে।

একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, এখন আর আত্মসন্তুষ্টি করার সময় নেই। বিএনপি যদি বড় কর্মসূচিতে যায় তবে আমরা বসে নেই আর ভবিষ্যতেও বসে থাকবো না। যদিও দলের খারাপ ও মন্দ কাজ নিয়ে বেশি সতর্ক হতে চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলছেন, “আমরা ভালোর জন্য আশা করবো কিন্তু মন্দের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। খারাপ কাজ করলে খারাপ সমেয়ে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবো। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 34 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*