Home » জাতীয় » ‘র‍্যাবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভাবা দরকার’

‘র‍্যাবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভাবা দরকার’

নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তাদের ১৬ জনই র‍্যাবের সদস্য ছিলেন।

তিনজন আবার প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা — দুজন সেনাবাহিনীর, একজন নৌ বাহিনীর।

একটি এলিট বা অভিজাত নিরাপত্তা বাহিনী হিসাবে র‍্যাবের ভাবমূর্তির ওপর এর কি কোনো প্রভাব পড়তে পারে?

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াৎ হোসেন বিবিসিকে বলেছেন, সাত খুনের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই র‍্যাবের ওপর একটা চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষজনের কাছ থেকে এই বাহিনীটির প্রতি এক ধরনের অনাস্থাও তৈরি হয়েছিলো।

“এটা হচ্ছে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্ষমতার বড় রকমের অপব্যবহার। তখনই র‍্যাবের ওপর এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যার ফলে র‍্যাব বহুদিন নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে ছিলো,” বলেন মি. হোসেন।

তিনি বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তাদের তৎপরতা খুব বেশি চোখে পড়েনি। এমনকি জঙ্গি দমনেও এই বাহিনীকে দেখা যায় নি। বরং পুলিশকেই বেশি তৎপর বলে মনে হচ্ছে।

মি. হোসেন মনে করেন, নারায়ণগঞ্জের হত্যাকাণ্ডের পরই পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ এখানে চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়েছে।

“লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদের নির্দেশে যদি এসব হয়ে থাকে তাহলে র‍্যাবের ভেতরে শৃঙ্খলায় বড় ধরনের এক সমস্যা হয়েছিলো। র‍্যাবের উচ্চতর পর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি না জানেন যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং ব্যাটালিয়ন এই ধরনের অপকর্ম করছে তাহলে তো বলতে হবে যে সেখানে চেইন অফ কমান্ডের একটা ঘাটতি ছিলো,” বলেন সাখাওয়াৎ হোসেন।

কাগজে কলমে র‍্যাব পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট হলেও মূলত এই বাহিনীর পরিচালনায় আছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা। এবং সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তারও সাজা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। তাহলে কি সেনাবাহিনীর ইমেজেরও ক্ষতি হয়েছে?

এই প্রশ্নের জবাবে মি. হোসেন বলেন, এই বাহিনীতে সেনাবাহিনী থেকে লোকজন ডেপুটেশনে থাকলেও এর দায় দায়িত্ব কিন্তু ওই সংস্থারই।

তিনি বলেন, “র‍্যাবের ভেতরে সেনাবাহিনী আছে কি নেই সেবিষেয় মানুষ কিছু মনে করে না। র‍্যাব তৈরি হয়েছিলো পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনীর লোকজনদের নিয়ে। এটা ছিলো বহু বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি অভিজাত বাহিনী।”

“কিন্তু এর নেতৃত্বে আছেন ডিজি এবং তারপর আইজিপি বা পুলিশের মহাপরিদর্শক। র‍্যাবের ভেতরে কারো কর্মকাণ্ড খারাপ হলে তাকে শাস্তি দেবে কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু এতো বড় একটি ঘটনা ঘটার পরে আমরা কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে কিছু করতে দেখিনি,” বলেন তিনি।

তবে তিনি জানান, সেনাবাহিনীর অফিসাররা এরকম বাইরে এসে এধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে সেনাবাহিনীর ওপরেও যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

নারায়ণগঞ্জের ঘটনার পর সেনাবাহিনীকে পুলিশের ভূমিকায় নামানো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মি. হোসেনও মনে করেন যে এবিষয়ে এখন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চিন্তাভাবনা করা দরকার কোন পর্যায়ে এবং কি পরিমাণে সেনাবাহিনী সেখানে অংশ নিবে। কারণ নারায়ণগঞ্জের হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

“যদিও বলা হয় যে এই অপরাধের সাথে বাহিনী নয়, বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে জড়িত ছিলেন তারপরেও মনে রাখতে হবে যে তারা সেনাবাহিনী থেকে ডেপুটেশনে এসেছিলেন,” বলেন তিনি।
মি. হোসেন বলেছেন, এখন এই ডেপুটেশনে পাঠানোর ব্যাপারে কড়াকড়ি করতে হবে।

এবং সেনাবাহিনীর নীতি নির্ধারকদের ভেবে দেখতে হবে এই ধরনের বাহিনীতে তারা তাদের প্রতিনিধি পাঠাবেন কিনা।সূত্র:বিবিসি বাংলা

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 37 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*