Home » জাতীয় » শাহবাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

শাহবাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

বিশেষ প্রতিনিধি:

রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চুক্তি বাতিল ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে ৭ দফা দাবিতে ডাকা হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছেই। সকাল থেকে কয়েকদফা সংঘর্ষে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তারসহ অর্ধশত আহত হয়েছেন। এতে শাহবাগের পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। তারা হলেন- কালের কন্ঠ পত্রিকার চিফ ফটোগ্রাফার শেখ হাসেম, ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির।ঘটনাস্থল থেকে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন বিডি২৪লাইভের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মোহন কুমার দাস ও মেহেদি হাসান।

জানা গেছে, বিক্ষোভকারীরা বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে হরতালের সমর্থনে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে যেতে চায়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে তারা শাহবাগের দিকে যেতে চাইলে কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এরপর হরতাল সমর্থকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং দমাতে ভোর থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ। শাহবাগ থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়ন করা হয়। দাঙ্গা পুলিশসহ বেশ কয়েকটি জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়।

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হরতালের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল এসে শাহবাগ অবস্থান নিলে পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামানও ব্যবহার করতে দেখা যায় পুলিশকে। এসময় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তারসহ ৩০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন হরতালকারীরা।

এছাড়া পুলিশের টিয়ারশেলে একই পরিবারের সাত জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার সামনে এ ঘটনা ঘটে। চারুকলা অনুষদের স্টাফ কোয়াটারে থাকা ঢাবির এক কর্মকর্তাসহ পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পরিবাবের প্রধান মোহাম্মদ সোলাইমান বিডি টোয়েন্টিফোর লাইভ ডক কমকে বলেন, আমরা সকাল থেকেই বাসায় অবস্থান করছি। হঠাৎ করে একটি টিয়ারশেল এসে পড়ে আমাদের বাড়ির মধ্যখানে। এতে আমার তিন বছরের সান্তনসহ সবই এর ধোয়ায় অসুস্থ হয় পড়ে। এরপর আবারও টিনের চালে এসে পড়ে আরো দুইটি টিয়ারশেল।

সোলাইমান আরো জানান, চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা এসে তাদের উদ্বার করে। এখন অসুস্থদের প্রথমিক চিকিৎসা চলছে। চারুকলার এক শিক্ষার্থী জানন, সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় এ সংর্ঘষ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১০/১৫ টা টিয়ারশেল চারুকলা অনুষদের ভেতরে পড়েছে। এতে আমরা সবাই আতঙ্কিত।

জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার রাত থেকেই হরতাল-সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। হরতালের সমর্থনে সকালে শাহবাগ এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয়। মিছিলে হামলা করে পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান বিডি২৪ লাইভকে বলেন, হরতাল সমর্থকদের রাস্তা অবরোধ করতে নিশেষ করা হয়। কিন্তু তারা বাধা উপেক্ষা করে গণপরিবহন চলাচলে বাধা দেয়, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একারণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।

এদিকে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের প্রতিবাদে পল্টনে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে হরতাল পালন করছে সমর্থকরা। এর আগে ভোর থেকে তারা পল্টন মোড় ও প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রেসক্লাবের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে পুলিশ পল্টন মোর থেকে গণপরিবহন প্রেসক্লাবের দিকে যেতে দিচ্ছে না। তবে হরতাল সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে পল্টন এলাকায় কোন ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক বিবৃতিতে এ হরতাল ও বিক্ষোভের ঘোষণা দেন। হরতাল চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত ।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 40 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*