Home » জাতীয় » ঠেঙ্গার চরে পাঠানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের!

ঠেঙ্গার চরে পাঠানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের!

ঢাকা: কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গার চরে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘‘এরা অস্থায়ী ভিত্তিতে সেখানে থাকবে৷ আমরা চাই দ্রুত তাদের ফেরত নিক মিয়ানমার৷”

তবে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিচার্স ইউনিট (রামরু)-এর প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. সিআর আবরার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন৷

হাতিয়ার ওই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের নেয়ার আগে সরকার বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ‘ডাটাবেজ’ তৈরির উদ্যোগ নেবে৷ আগামী তিনমাসের মধ্যে তা ডাটাবেজ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

ডাটাবেজ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘কক্সবাজারের রোহিঙ্গারা বাঙ্গালি সমাজের সাথে মিশে গেছে৷ তাই রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ঠভাবে চিহ্নিত করার জন্য স্থানীয় কমিটি করা হয়েছে এবং তাদের চিহ্নিত করা হবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায়৷ ডাটাবেজ প্রস্তুত হয়ে গেলে মিয়ানমার সরকারের সাথে অথবা বিদেশি রাষ্ট্র বা সংস্থার সাথে কাজ ও কথা বলার সময়ে সুবিধা হবে৷”

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছে৷ গৃহহীন হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার জন৷ অক্টোবরের ২৭ তারিখে তোলা এই ছবিতে ঐ রাজ্যের একটি গ্রামের বাজার দেখা যাচ্ছে, যেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল৷ শিশুরা সেখান থেকে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করছে৷

শাহরিয়ার আলম জানান, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে মিয়ানমারের অবৈধ নাগরিকদের হাতিয়ার ঠেঙ্গার চরে অস্থায়ী ক্যাম্পে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ সেনাবাহিনীর সহায়তায় ঠেঙ্গার চরে কাঠামো তৈরি করার কাজ চলছে৷” তবে তিনি মনে করেন এ কাজে কিছুটা সময় লাগবে৷

জানা গেছে, কক্সবজারের কুতুপালং ক্যাম্পের ধারণ ক্ষমতা ৩০ হাজার৷ কিন্তু সেখানে বাস করে তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা৷ এর ফলে কক্সবাজার ও উখিয়াতে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে এবং সামাজিক, প্রাকৃতিক, স্বাস্থ্যগত সেবা দেয়া সম্ভব হয় না৷

কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গার চরে পাঠানো শুরু হতে পারে৷ এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘ ঠেঙ্গার চরে রোহিঙ্গা পাঠানোর কাজ শুরু করতে সময় লাগবে৷ কিন্তু নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করবো৷ তারা অস্থায়ী ভিত্তিতে সেখানে থাকবে এবং আমরা চাইবো মিয়ানমার সরকার যত দ্রুত সম্ভব তাদের ফেরত নেবে৷”

গত বছর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ কম অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছে৷ এবং ৩০ হজারের বেশি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছে শুধু কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে৷ গত অক্টোবরের পর থেকে ৭০ হাজারে মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে৷

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 32 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*